ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ভারতের আচরণে সুসম্পর্কের লক্ষণ নেই:

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে, স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে, স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়: স্পিকার

ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সমমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক প্রয়োজন হলেও সেই সম্পর্ক কোনোভাবেই ‘স্বামী-স্ত্রীর মতো’ হওয়া উচিত নয়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্পিকার। নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলার লালমোহন ও তজুমদ্দিনে তিন দিনের সরকারি সফর শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে যেভাবে ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এমন সম্পর্কের প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে যে ধরনের সম্পর্কের প্রয়োজন, তেমনই সুসম্পর্ক চাই।”

ভারতের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি

দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্পিকার বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখান থেকে তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এটি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

স্পিকারের ভাষায়, কোনো প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া প্রতিবেশীসুলভ আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং সমমর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও কার্যকর করতে পারস্পরিক আস্থা ও ইতিবাচক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

‘সুসম্পর্ক চায়—এমন ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না’

ভারতের বর্তমান অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্পিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হলেও এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে সুসম্পর্ক গড়ার তেমন কোনো ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বর্তমানে অনেকটাই দূত বা কূটনৈতিক পর্যায়ের কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

ব্রিকস নিয়েও ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

ব্রিকস প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশকে খোলামেলাভাবে কিছু জানায়নি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, দুই দেশের মধ্যে যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং জনগণের স্বার্থ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে।

ভোলায় তিন দিনের সরকারি সফর শেষে ঢাকা

নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলার লালমোহন ও তজুমদ্দিনে তিন দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এ সময় ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

এ সময় ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কাওছারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!