ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য: ভারতের ৪ প্রতিষ্ঠান ও ৩ নাগরিকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১১:২৪ এএম

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য: ভারতের ৪ প্রতিষ্ঠান ও ৩ নাগরিকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি প্রতিষ্ঠান ও তিন নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের নতুন ঘোষিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় সোমবার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের জ্বালানি খাত থেকে রাজস্ব প্রবাহ বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ানোই এ নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতের যে ৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পোর্টেজ পার্টনার্স এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।

এ ছাড়া তিন ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন পোর্টেজ পার্টনার্সের দুই অংশীদার হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি ও ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ এবং পিপি সফটটেকের প্রশান্ত গর্গ।

ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যের অভিযোগ

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটি ইরানি পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনে যুক্ত ছিল।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পোর্টেজ পার্টনার্স এলএলপি ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল ভারতে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক-সংক্রান্ত সহায়তা দিয়েছে। অন্যদিকে সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার মূল্যের পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড—দুটি প্রতিষ্ঠানই প্রায় আড়াই কোটি ডলার করে পেট্রোলিয়াম পণ্যসংক্রান্ত বড় ধরনের লেনদেনে যুক্ত ছিল বলে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

একসঙ্গে ৬০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে নেওয়া এই পদক্ষেপ শুধু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বা নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একই দিনে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ মোট ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্রগামী জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে।

ওয়াশিংটনের নীতির মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা। মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের জ্বালানি খাতকে দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান রাজস্ব উৎস হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ বা আর্থিক স্বার্থ থাকলে সেগুলো অবরুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেনও কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিকদের ফেরানোর উদ্যোগ

এদিকে ইরানকে ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন দূতাবাসে কূটনীতিক ও কর্মীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

এ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানকে ঘিরে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে—এমন ধারণা করা হচ্ছে।

তবে একই সময়ে ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর নতুন করে বড় পরিসরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বোঝা যাচ্ছে, সামরিক উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা থাকলেও অর্থনৈতিক চাপের কৌশল থেকে সরে আসছে না যুক্তরাষ্ট্র।

ভারত-মার্কিন সম্পর্কে নতুন চাপের আশঙ্কা

ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ভারতীয় চার প্রতিষ্ঠান ও তিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে ইরানি জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিয়ে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, ইরানের রাজস্বের প্রধান উৎসগুলোতে চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি তৃতীয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোও যেন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করছে ওয়াশিংটন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!