ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম, ফি ও সাক্ষাৎকার নিয়ে যা জানা জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম, ফি ও সাক্ষাৎকার নিয়ে যা জানা জরুরি

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে আবেদন ফি, সাক্ষাৎকারের স্থান এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন ও সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বিশেষ করে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারী কোন দেশে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেবেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত আবেদনকারীদের নিজেদের নাগরিকত্বের দেশ অথবা বৈধভাবে বসবাসের দেশে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া উচিত। অন্য কোনো দেশে গিয়ে আবেদন করলে প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে এবং অপেক্ষার সময়ও বাড়তে পারে।

নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি কত?

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ অধিকাংশ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে ১৮৫ মার্কিন ডলার। এই আবেদন ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

তবে ভিসার ধরন অনুযায়ী ফি আলাদা। পিটিশনভিত্তিক কিছু কর্মসংস্থান ভিসার ক্ষেত্রে আবেদন ফি ২০৫ ডলার। এর মধ্যে H, L, O, P ও R শ্রেণির ভিসা রয়েছে।

এ ছাড়া E শ্রেণির ভিসার আবেদন ফি ৩১৫ ডলার এবং মার্কিন নাগরিকের বাগদত্তা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত K শ্রেণির ভিসার আবেদন ফি ২৬৫ ডলার।

ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ফিও আলাদা

স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা ফি প্রযোজ্য।

অনুমোদিত I-130, I-600 অথবা I-800 পিটিশনের ভিত্তিতে পারিবারিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ৩২৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে ফি ৩৪৫ ডলার।

এ ছাড়া অন্যান্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য ২০৫ ডলার আবেদন ফি নির্ধারিত রয়েছে।

বাংলাদেশিদের সাক্ষাৎকার কোথায় হবে?

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ভিসা প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারিত স্থান। তবে ভিসার ধরন, আবেদনকারীর পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ভিন্ন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনকারীদের সাধারণত তাদের নাগরিকত্বের দেশ অথবা বসবাসের দেশে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্য কোনো দেশে গিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে আবেদনকারীর জন্য অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত ফি দিয়ে দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ

২০২৬ সালে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ নিয়েও একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত কিছু পোস্টে যোগ্য B ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার ফি দিয়ে দ্রুত সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এই ব্যবস্থায় যোগ্য আবেদনকারীরা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এটি সব মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে চালু নেই এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল।

ফলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাক্ষাৎকার নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট পোস্টে এ সুবিধা চালু আছে কি না এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে কি না, তা আগে যাচাই করতে হবে।

ভিসা ফি দিলেই কি ভিসা নিশ্চিত?

না। আবেদন ফি পরিশোধ করা ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। আবেদন ও সাক্ষাৎকারের পর কনস্যুলার অফিসার আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য, প্রয়োজনীয় নথি এবং ভিসার যোগ্যতা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।

তাই নির্ধারিত ফি পরিশোধের পাশাপাশি আবেদনপত্রে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

আবেদনকারীদের যে বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করার আগে আবেদনকারীদের কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে যাচাই করা উচিত—

প্রথমে কোন ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করছেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট ভিসার সর্বশেষ আবেদন ফি যাচাই করতে হবে।
সাক্ষাৎকারের জন্য কোন দেশে বা কোন পোস্টে আবেদন করা যাবে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
অন্য দেশে গিয়ে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পোস্টের নিয়ম ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিস্থিতি যাচাই করতে হবে।
দ্রুত সাক্ষাৎকারের কোনো বিশেষ সুবিধা থাকলে সেটির যোগ্যতা, অতিরিক্ত ফি ও বাস্তব প্রাপ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
আবেদন ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়—তাই অর্থ পরিশোধের আগে আবেদনসংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
ভিসা আবেদন বা সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে ভুল, অসম্পূর্ণ বা অসত্য তথ্য না দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাইয়ের পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় ফি, সাক্ষাৎকারের নিয়ম, অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রাপ্যতা ও অন্যান্য শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদনকারীদের আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।

সঠিক ভিসার ধরন নির্বাচন, নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং যথাযথ জায়গায় সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া—এই তিনটি বিষয় আবেদন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!