চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ।
নিহতদের মধ্যে ভাই-বোন ও মামা
নিহতরা হলেন—কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা নিয়াজ মোর্শেদ (২২), তার ছোট বোন মিমতাহ (১৭), তাদের মামা মো. ফেরদৌস আলম (৫৫) এবং মাইক্রোবাসের চালক মো. মুন্না।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত ও আহতরা একই পরিবারের সদস্য এবং স্বজন। তারা চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকায় ফিরছিলেন।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনা
স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে তারা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। রাত প্রায় ২টার দিকে মাইক্রোবাসটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছায়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ইউটার্ন নেওয়ার সময় একটি কাভার্ড ভ্যান মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থলে নিহত দুজন
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় ঘটনাস্থলেই মো. ফেরদৌস আলম ও মিমতাহ মারা যান।
অন্য আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক নিয়াজ মোর্শেদ ও মাইক্রোবাসের চালক মো. মুন্নাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফলে এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চারজনে।
হাসপাতালে ভর্তি ৭, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
দুর্ঘটনায় আহত আরও সাতজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা রয়েছেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কাভার্ড ভ্যান জব্দ, চালক-সহকারী পলাতক
কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমদ জানান, দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর এর চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।
তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
ইউটার্ন নেওয়ার সময় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে, কাভার্ড ভ্যানটির গতি কত ছিল এবং চালকের কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ব্যস্ততম অংশগুলোর একটি শিকলবাহা চৌমুহনী। সেখানে রাতের বেলায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
বিয়ের আনন্দ থেকে শোকের মাতম
পরিবারের এক সদস্যের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে আনন্দঘন পরিবেশে কক্সবাজারের ঈদগাহে ফিরছিলেন স্বজনরা। কিন্তু পথেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের চারজনের মৃত্যু সেই আনন্দকে পরিণত করেছে গভীর শোকে।
একই পরিবারের ভাই-বোন ও মামাসহ চারজনের মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য স্বজনরা সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

