ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী

ছবিঃ সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের ভোগান্তি বেড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।

রোববার (গতকাল) রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সকাল থেকেই নগরীর আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাপাসগোলা, রাহাত্তারপুল, বাকলিয়া, চকবাজার, নিউমার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানি জমে যায়। নিচু সড়ক ও অলিগলিতে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।

নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে জলাবদ্ধতার চিত্র ছিল আরও প্রকট। অফিসপাড়ার বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলে যেতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন চাকরিজীবীরা। অনেককে জুতা হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও রিকশা ও ছোট যানবাহন পানিতে আটকে পড়ে।

ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতেও। আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার এলাকাতেও জলজট দেখা দেয়। বিভিন্ন সড়কে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে না পারায় যানজট তৈরি হয়। জলাবদ্ধ সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাব এবং মৌসুমি বায়ুর কারণে চট্টগ্রামে আরও দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীরা

সকালে বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। অনেক এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতের পার্থক্য বোঝার উপায় ছিল না। কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে।

আগ্রাবাদ চট্টগ্রাম চেম্বার এলাকার বাসিন্দা সুজন মল্লিক বলেন, ‘রাত থেকে বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি আরও বেড়েছে। হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অফিসে যাওয়ার জন্য বের হলেও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে না।’

নগরবাসীর অভিযোগ, সামান্য থেকে মাঝারি বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ভারী বৃষ্টির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলেও অনেক জায়গায় দ্রুত পানি নামছে না। এতে সড়কে জমে থাকা পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার পাশাপাশি দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢোকার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। পানি জমে থাকায় যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও ঝুঁকি বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় শুধু খাল খনন বা নালা পরিষ্কার করলেই হবে না; নগরীর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সক্ষমতা, খাল-নালা দখল ও ভরাট রোধ, পর্যাপ্ত জলাধার সংরক্ষণ এবং সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম প্রস্তুতি ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নগরীর জলাবদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। তাই নগরবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া পানিবন্দী সড়কে চলাচল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!