ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

দেশের ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল, মজুত ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

দেশের ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল, মজুত ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে সার সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের যেকোনো স্থান থেকে সারসংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেলে মনিটরিং সেলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পাবনা-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধিতে সার সংকট নিয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করলে জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন

সংসদে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, দেশে বর্তমানে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন। এর বিপরীতে সরকারি হিসাবে বর্তমানে মজুত রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় দেশে প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন সার উদ্বৃত্ত থাকার কথা।

সার বিতরণ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য দেশের প্রতিটি মনিটরিং সেলকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। প্রতিটি সেল দুজন করে যুগ্মসচিব ও উপসচিবের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সার নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মনিটরিং সেল বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর মাধ্যমে সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

৩ হাজার ৭৫৯ ডিলার পালিয়ে যাওয়ার দাবি

সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের মাধ্যমেই এতদিন সার ডিলারশিপ পরিচালিত হয়ে আসছিল। এসব ডিলারের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯ জন পালিয়ে গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বর্তমানে ডিলারশিপ শূন্য রয়েছে।

এই শূন্যতা পূরণে ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন করে ৪ হাজার ৯১৮ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নতুন ডিলার নিয়োগের পর প্রত্যেক ডিলার ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও দুজন করে অতিরিক্ত ডিলার নিয়োগ করবেন। এভাবে ডিলার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে এবং সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায়ও গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এখনও নতুন ডিলার নিয়োগ হয়নি

তবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, সরকার এখনো নতুন কোনো সার ডিলার নিয়োগ দেয়নি। নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমন ধান পাকার পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এ সময়ে কৃষকদের মধ্যে সারের ব্যাপক চাহিদা নেই। তবে অনেক কৃষক আসন্ন বোরো মৌসুমের কথা বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকেই সার কিনে রাখার চেষ্টা করছেন। এর ফলে বিশেষ করে নন-ইউরিয়া সারের ওপর অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউরিয়া মজুত ৪ লাখ ১৮ হাজার টন

সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

তিনি ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন ধরনের সারের মজুতের তথ্য তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে—

ইউরিয়া: ৪ লাখ ১৮ হাজার টন
টিএসপি: ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন
ডিএপি: ৩ লাখ ২ হাজার টন
এমওপি: ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন

এ ছাড়া আরও বিপুল পরিমাণ সার পরিবহনের পথে রয়েছে।

পরিবহনের পথে থাকা সারের মধ্যে টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন রয়েছে বলে জানান তিনি।

সার বিতরণে ডিলার নেটওয়ার্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা

মীর শাহে আলম জানান, বর্তমানে সারাদেশে ১ হাজার ১০৫ জন মূল ডিলার এবং ৩১ হাজার ৬০০ জন খুচরা ডিলার রয়েছেন।

সার বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে নতুন করে ৮ হাজার ৬৮৭ জন ডিলার এবং ১৬ হাজার খুচরা ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ডিলার নিয়োগ সম্পন্ন হলে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের কাছেও সার সরবরাহ আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সার সংকটের অভিযোগ, সরকারের নজরদারি জোরদার

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সার পাওয়া যাচ্ছে না বা চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম—এমন অভিযোগ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংসদে এ বিষয়টি আলোচনায় ওঠার পর সরকার সার মজুত, পরিবহন ও বিতরণ পরিস্থিতি তুলে ধরে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। পাশাপাশি পরিবহনের পথেও বিপুল পরিমাণ সার রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে কোথাও সরবরাহে সমস্যা, মজুতদারি কিংবা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ৬৪ জেলার মনিটরিং সেলকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য

কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সময়মতো সার পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বোরো মৌসুম সামনে রেখে সারের চাহিদা বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকার একদিকে বিদ্যমান মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, অন্যদিকে ডিলার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় সার মজুত বেশি থাকলেও অঞ্চলভেদে সরবরাহের ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ডিলারশিপের শূন্যস্থান পূরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফলে জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুতের পাশাপাশি কৃষকের চাহিদার সময়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সার পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: বাসস

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!