রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে বিমানবাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টার্মিনালের দ্বিতীয় তলার উড়ালসড়ক (ফ্লাইওভার) থেকে নিচে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাতে বিমানবাহিনীর সদস্যরা তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তাদের বহনকারী পিকআপ ভ্যানটি দ্বিতীয় তলার ফ্লাইওভারে ওঠে। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে পিকআপটি উড়ালসড়কের ওপর থেকে নিচে ছিটকে পড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই নিহত তিন বিমানসেনা
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বিমানবাহিনীর তিন সদস্যের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—
ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ
কর্পোরাল পিয়াস
এলএসি জুবাইদুল
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন কর্পোরাল সিফাত (আবু সাঈদ), কর্পোরাল মাহবুব ও এলএসি আহাদ। এ ছাড়া সিনিয়র অফিসার আবুল খায়ের নামে আরও একজন কর্মকর্তা সামান্য আহত হয়েছেন।
ফলে নিহত তিনজনের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় মোট চারজন আহত হয়েছেন।
দ্রুত উদ্ধার করে সিএমএইচে ভর্তি
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। বিমানবাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ভ্যান থেকে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুতর আহতদের রাজধানীর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা।
নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় দুর্ঘটনা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প। টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন নির্মাণকাজ ও যান চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে।
দুর্ঘটনাটি তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণাধীন অংশের ফ্লাইওভারে ঘটায় সেখানে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চলাচল এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে কী কারণে পিকআপ ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অতিরিক্ত গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো, সড়কের অবস্থা কিংবা অন্য কোনো কারিগরি কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন
এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গাড়িটির যান্ত্রিক অবস্থা, চালকের সক্ষমতা, দুর্ঘটনার সময়কার গতি, ফ্লাইওভারের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়ক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে নির্মাণাধীন এলাকায় ভারী যানবাহন ও নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
এদিকে দুর্ঘটনায় তিন বিমানসেনার মৃত্যুতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ গেল তিনজনের
বিমানবাহিনীর সদস্যরা বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত ছিলেন। সেই দায়িত্ব পালনের সময়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাদের প্রাণ হারাতে হলো।
একসঙ্গে তিন সদস্যের মৃত্যু এবং আরও চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং এ ঘটনায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।

