ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে কক্সবাজার, বগুড়া বিমানবন্দর চালুর সমীক্ষা চলছে

দৈনিক আজ ও আগামীকাল ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে কক্সবাজার, বগুড়া বিমানবন্দর চালুর সমীক্ষা চলছে

ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী অক্টোবরের মধ্যেই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে বগুড়া বিমানবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিমান পরিবহন খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।

অক্টোবরে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক সেখানে ভ্রমণ করেন। পর্যটন খাতের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও সহজ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত করার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এর ফলে ভবিষ্যতে কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি আন্তর্জাতিক আকাশপথে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বগুড়া বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বগুড়া বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা। এ বিষয়ে সরকারও উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।

তিনি জানান, বগুড়া বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিমানবন্দরটি চালু করার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বগুড়া বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের দ্রুত আকাশ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিমানমন্ত্রী জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হবে।

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ও ফ্লাইটের চাপ সামলাতে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও বিমানবন্দর পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিমানবহরে আসছে ১০টি লিজের উড়োজাহাজ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ১০টি উড়োজাহাজ লিজে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উড়োজাহাজ আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে বিমান বাংলাদেশের বহরে যুক্ত হতে শুরু করবে।

নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে লিজে আনা বিমানগুলো দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

২০৩১ সালের মধ্যে নতুন বোয়িং

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশের বহরে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিমানমন্ত্রী।

তার তথ্য অনুযায়ী, বোয়িং থেকে নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের মধ্যে বিমান বাংলাদেশের বহরে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পুরোনো উড়োজাহাজের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক গন্তব্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনা

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, বগুড়া বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে দেশের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে কক্সবাজার ও বগুড়ার বিমান যোগাযোগ উন্নত হলে দেশের দুই ভিন্ন অঞ্চলের পর্যটন, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসতে পারে। অন্যদিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিমানের বহর আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবকাঠামোগত কাজ, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, উড়োজাহাজ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার ওপর।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!