বগুড়ায় সাইফুল ইসলাম (৫০) নামে সাবেক এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার আশোকোলা পূর্বপাড়া (বাঘোপাড়া) এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত সাইফুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত আবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের দুইবারের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি খামার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বাড়ি ফেরার পথে পথরোধ
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববার রাতে বাঘোপাড়া বাজার থেকে এক নাতিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন সাইফুল ইসলাম। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তিন যুবক তার পথরোধ করে।
এ সময় তাদের সঙ্গে সাইফুলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই তিন যুবক ধারালো রামদা দিয়ে সাইফুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে পাশের একটি জমিতে ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হামলার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল থেকে আলামত উদ্ধার
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে এক জোড়া জুতা ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
হত্যার কারণ খুঁজছে পুলিশ
সাবেক এই ইউপি সদস্যকে কেন হত্যা করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পূর্বশত্রুতা, স্থানীয় বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে প্রকাশ্য সড়কের কাছাকাছি এ ধরনের হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

