ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: রংপুরে গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: রংপুরে গ্রেপ্তার ২

ছবিঃ সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় ওই পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের মালামাল তছনছ ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন—নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

পুলিশ কমিশনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বাসভবনের পাশের দেবপতির তিনতলা ভবন ব্যবহার করে তার দুইতলা বাড়ির ছাদে ওঠে অভিযুক্ত দুই যুবক। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল।

একপর্যায়ে বিষয়টি দেখতে পান রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল। ইয়াবা সেবনের প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা তাকে গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গণপতির চিৎকার শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০) ছাদে এগিয়ে এলে তাকেও গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) সেখানে এলে তাকেও গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ বলছে, কয়েক মিনিট চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর রশি দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

এরপর বাড়ির ভেতরে থাকা পরিবারের ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)-কে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।

হত্যার পরও বাড়িতে অবস্থান

পুলিশের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডের পরের ঘটনাও উঠে এসেছে। চারজনকে হত্যার পর অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে যায়নি। বরং তারা বাড়ির বাথরুমে গোসল করে এবং পরে ডাইনিংয়ে বসে খেজুর খায়। এরপর ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খাওয়ার পাশাপাশি তাদের কাছে থাকা অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে।

এ সময় ভোর পেরিয়ে দিনের আলো ফুটে ওঠে। পরে সুযোগ বুঝে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, জুমার নামাজের সময়কে তারা বের হওয়ার জন্য নিরাপদ সময় হিসেবে বেছে নেয়।

ডাকাতির নাটক সাজাতে লুট

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ আড়াল করতে অভিযুক্তরা বাড়ি তছনছ করে এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

পরে লুট করা স্বর্ণালংকারের একটি অংশ একটি পরিত্যক্ত মন্দিরের পেছনে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে জানতে পারে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হলেও তদন্তে একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে প্রকাশ্যে আসে হত্যাকাণ্ড

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।

নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।

একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটি ডাকাতি নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। পরে তদন্তে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি সামনে আনে।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।

তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, লুট করা স্বর্ণালংকারের পুরোটা উদ্ধার হয়েছে কি না এবং হত্যার আগে বা পরে অভিযুক্তদের সঙ্গে নিহত পরিবারের অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!