২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বছরের ১৪ মার্চ শুরু হবে। লিখিত পরীক্ষা চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে আগামী বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে নতুন বছরের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়ে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে।
রমজান ও ঈদের ছুটি বিবেচনায় পরিবর্তন
শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৭ সালের শিক্ষাপঞ্জি ও সরকারি ছুটির বিষয়গুলো বিবেচনা করে এসএসসি পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের পরীক্ষা ১৪ মার্চ শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হবে। পরীক্ষার বিস্তারিত সূচি, কোন দিনে কোন বিষয়ের পরীক্ষা হবে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
চলতি বছরের ফলাফলে পাসের হার কমেছে
এদিকে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে গত ১০ আগস্ট। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তবে আগের বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুই ক্ষেত্রেই কমেছে।
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ওই বছর ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার ও সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
নতুন পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সময়
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকছে। শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক রুটিন প্রকাশ করলে শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য নির্দিষ্ট সময় ধরে পরিকল্পনা করতে পারবেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার তারিখ আগেভাগে নির্ধারণ হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকেই প্রস্তুতি ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিকল্পনা করতে পারবে।

