কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী (বোবা) গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ওই নারীর নাম মোসাম্মৎ তাছলিমা (৪০)। তিনি দুই সন্তানের জননী। পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে এবং তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাছলিমার বড় ভাই দলিল লেখক আজিজুল হক সুলতান, তার স্ত্রী নাহিদা এবং তাদের মেয়ে রিদী। তাদের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে তাছলিমার ওপর হামলা চালান।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাছলিমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর ধারালো বটি ও দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাছলিমা বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার চিৎকার কেউ শুনতে পাবে না—এমন ধারণা থেকেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাছলিমার অসহায় আর্তনাদ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার বড় বোনও হামলার শিকার হন। হামলায় তার একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনিও আহত হন।
আহতের ছোট ভাই আহসান হাবীব সবুজ অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তিনি কুমারখালী থানায় লিখিত এজাহার নিয়ে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। তার দাবি, থানার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এ ঘটনায় তারা কোনো সহযোগিতা করতে পারবে না। এতে পরিবার চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাছলিমা জন্মগতভাবে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। জীবনের আগের একটি মর্মান্তিক ঘটনাও এখনও তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কয়েক বছর আগে পানিতে ডুবে তার বড় সন্তানের মৃত্যু হয়। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার প্রাণঘাতী হামলার শিকার হওয়ায় পরিবারটি চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক ও প্রতিবেশীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ গ্রহণ এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আহত তাছলিমার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

