ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলিতে আসাদুল্লাহ হক (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর সীমান্তের চকসিমানন্দ বিওপি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদুল্লাহ হক ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ইন্দ্রাইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে। সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার সময় বিএসএফের গুলিতে তিনি আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
বিএসএফের গুলিতে আহত, হাসপাতালে মৃত্যু
ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে রাধিকাপুর সীমান্তের চকসিমানন্দ বিওপি এলাকায় আসাদুল্লাহ হকসহ কয়েকজন সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে বিএসএফের গুলিতে তিনি ঠিক কীভাবে আহত হন, কত দূর থেকে গুলি চালানো হয়েছিল কিংবা ওই সময় তার সঙ্গে আর কেউ ছিলেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র
নিহত আসাদুল্লাহ হক পীরগঞ্জ উপজেলার ইন্দ্রাইল গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে তিনি কী উদ্দেশ্যে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, সীমান্তে তার সঙ্গে কারা ছিলেন এবং তিনি কোনো চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
বিজিবির কাছে পৌঁছেছে নিহতের খবর
ঘটনার বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার কথা জানান।
তিনি বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
তবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা এবং বিএসএফের গুলির ঘটনার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে তথ্য নেই
ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল্লাহ হকের মৃত্যুর পর তার মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে এবং কী প্রক্রিয়ায় তা দেশে ফেরত আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
সাধারণত সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি নিহত হলে মরদেহ হস্তান্তর ও দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এ ঘটনায়ও পরবর্তী সময়ে মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সীমান্তে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ
সীমান্তে অবৈধভাবে পারাপারের সময় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সীমান্তে প্রাণহানির বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে আসাদুল্লাহ হকের মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ এবং তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, আসাদুল্লাহ হক কেন এবং কী পরিস্থিতিতে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন, সেই বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিজিবি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

