ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

কুয়ালালামপুরে যৌথ অভিযানে ৪৭২ বিদেশি আটক, বাংলাদেশিসহ ১০ দেশের নাগরিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

কুয়ালালামপুরে যৌথ অভিযানে ৪৭২ বিদেশি আটক, বাংলাদেশিসহ ১০ দেশের নাগরিক

ছবিঃ সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের লেবুহ পুদু এলাকায় বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালিয়ে ৪৭২ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিদেশির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের ২১৮ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মোট ৩৩৭ সদস্য অংশ নেন।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবুহ পুদু এলাকায় বিদেশিদের অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না, ভিসার মেয়াদ ঠিক আছে কি না এবং কাজের অনুমতিপত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি বৈধ কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।

আটক ৪৭২ জনের মধ্যে ৪৩৯ পুরুষ ও ৩৩ নারী

কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক হামশা ইনজাউ জানান, অভিযানে আটক ৪৭২ জনের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ ও ৩৩ জন নারী। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৬২ বছর।

আটক ব্যক্তিরা বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত, চীন, সৌদি আরব ও জিম্বাবুয়ে—এই ১০ দেশের নাগরিক।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা এবং অস্বীকৃত বা সন্দেহজনক নথি বহনের অভিযোগ।

বৈধ কাগজপত্র থাকায় অনেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

অভিযানের সময় বিদেশিদের পরিচয় ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথি যাচাই করা হয়। যাদের কাছে বৈধ ভ্রমণ নথি এবং কাজের অনুমতিপত্র পাওয়া গেছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেনাকাটা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কারও অবস্থান ও নথিপত্রে অনিয়ম রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করতেই ব্যাপকভাবে কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।

কেন অভিযান চালানো হলো লেবুহ পুদুতে?

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, লেবুহ পুদু এলাকায় বিদেশিদের অতিরিক্ত উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। একই সঙ্গে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া বা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগও ছিল।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সদস্যরাও অংশ নেন।

অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি, ভিসার শর্ত লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত অনিয়ম শনাক্ত করা। পাশাপাশি বিদেশিদের আশ্রয় দেওয়া বা অবৈধভাবে কাজে নিয়োগ দেওয়ার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, সেটিও কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।

বুকিত জলিলে নেওয়া হয়েছে আটক ব্যক্তিদের

অভিযানে আটক ৪৭২ জনকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সেখানে তাদের পরিচয়, অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগকর্তা ও আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, শুধু অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধেই নয়, তাদের আশ্রয়দাতা ও নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কোনো বিদেশি বৈধ অনুমতি ছাড়া মালয়েশিয়ায় অবস্থান করলে কিংবা অনুমোদিত শর্তের বাইরে কাজ করলে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা আশ্রয়দাতার ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আহ্বান

মালয়েশিয়ায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানরত বিদেশিদের স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য সরকার ঘোষিত ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’-এর সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইমিগ্রেশন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত কর্মসূচির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগও রয়েছে।

লেবুহ পুদুর এই অভিযান মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন ও অভিবাসনসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশটির চলমান নজরদারিরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশিদের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতে নথিপত্র যাচাই এবং আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও জোরদার হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!