ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের তরুণরা

দৈনিক আজ ও আগামীকাল ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের তরুণরা

ছবিঃ সংগৃহীত

হেডিং:

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের তরুণরা

উপশিরোনাম:

ইউএনএফপিএ জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র; কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে ব্যর্থ হলে জনমিতিক লভ্যাংশই হতে পারে ভবিষ্যতের বড় সংকট

বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আজ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরির অনিশ্চয়তা, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, আয়-বৈষম্য এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা সবচেয়ে বেশি।

বিশ্ব জনসংখ্যা তহবিলের (UNFPA) সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বৈষম্য ও ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণরা যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান কিংবা প্রতিবেশী ভারতের তরুণদের চেয়েও বেশি উৎকণ্ঠায় ভুগছেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ উদ্বেগ

জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬৭ দশমিক ২ শতাংশ তরুণ ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ হার। বৈশ্বিকভাবে জরিপে অন্তর্ভুক্ত ৭৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দশম।

তুলনামূলকভাবে ভুটানে এই হার ৬৬.৩ শতাংশ, আফগানিস্তানে ৫৪.৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৩.২ শতাংশ এবং ভারতে ৪৭.৪ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান শুধু অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন নয়; এটি তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাহীনতারও একটি স্পষ্ট বার্তা।

জনমিতিক লভ্যাংশ হারানোর শঙ্কা

বাংলাদেশের জাতীয় যুব নীতি অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৪ শতাংশ মানুষ তরুণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখের। অর্থাৎ প্রায় অর্ধকোটি তরুণ উপযুক্ত কাজের সুযোগ পাননি।

দক্ষতার ঘাটতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু শিক্ষার হার বাড়ালেই হবে না; শিক্ষাকে হতে হবে বাজারমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক। বর্তমান চাকরির বাজারে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ডিজিটাল জ্ঞান, ভাষাগত সক্ষমতা ও উদ্যোক্তা মনোভাবের চাহিদা বাড়লেও সেই অনুযায়ী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখনও পর্যাপ্ত নয়।

ফলে অনেক তরুণ শিক্ষিত হয়েও কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যদি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে বর্তমানে যে তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, ভবিষ্যতে তারাই অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের ওপর জোর না দিলে এই সংকট আরও গভীর হবে।

ভবিষ্যতের জন্য করণীয়

নীতিনির্ধারকদের মতে, তরুণদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ জনগোষ্ঠী। তবে এই শক্তিকে যদি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো না যায়, তাহলে জনমিতিক লভ্যাংশের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!