ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

২০ বছর পর তসলিমার কলকাতা ফেরা ঘিরে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

২০ বছর পর তসলিমার কলকাতা ফেরা ঘিরে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক

ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশের আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিনের প্রায় দুই দশক পর কলকাতা সফরকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে মৌলবাদবিরোধী কবি-লেখকদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এই সফরের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই নিশ্চিত করেছেন তসলিমা নাসরিন। তবে তার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা এসেছে বামপন্থী রাজনৈতিক শিবির থেকে।

বাম নেতাদের কড়া সমালোচনা

পশ্চিমবঙ্গ সিপিআই (এম)-এর শীর্ষ নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, তসলিমা নাসরিন দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি ও আরএসএসের অবস্থানকে সমর্থন করে আসছেন।

তার ভাষায়, "শুধু তসলিমা নাসরিন নাম হলেই তিনি মুক্তচিন্তার প্রতীক হয়ে যান না। তিনি বিজেপির দোসর। যেদিন তিনি আরএসএস ও উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধেও একইভাবে কথা বলবেন, সেদিনই বোঝা যাবে তিনি কলকাতায় কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন।"

আইএসএফেরও আপত্তি

ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) নেতা ও বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও এ প্রসঙ্গে বলেন, তসলিমার সফরকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে।

তার দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এসে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, তার অনেকগুলোই বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তাই উন্নয়ন বা জনস্বার্থের ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরাতে তসলিমা নাসরিনের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মন্তব্য

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর, যিনি ২০০৭ সালে তসলিমার কলকাতা ত্যাগের সময় দায়িত্বে ছিলেন, তিনি বলেন, লেখিকাকে স্বাগত জানানো উচিত। তবে তিনি আশা করেন, সফরকালে এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া হবে না, যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

২০০৭ সালের সেই উত্তাল অধ্যায়

২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে কলকাতায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহায়তাও নিতে হয়েছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে পরে তসলিমাকে কলকাতা ছাড়তে হয়।

পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার কলকাতায় ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

আবারও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে

এবারের সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একজন লেখকের সফর নয়; বরং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয়-রাজনৈতিক বিভাজনের আলোচনাকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

তবে তসলিমা নাসরিনের সফর আদৌ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে কি না, কিংবা এর রাজনৈতিক প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হবে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা যে মন্তব্য করেছেন, সেগুলো তাদের নিজ নিজ মতামত। তার সফর ও এ-সংক্রান্ত রাজনৈতিক বিতর্কের বাস্তব প্রভাব সময়ই নির্ধারণ করবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!