ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ময়লার স্তূপে প্লাস্টিকের বাটিতে মিলল দুই নবজাতকের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

ময়লার স্তূপে প্লাস্টিকের বাটিতে মিলল দুই নবজাতকের মরদেহ

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রতিদিনের মতো ময়লা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাকির হোসেন। হঠাৎ ময়লার স্তূপের মধ্যে চোখে পড়ে দুটি প্লাস্টিকের বাটি। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে বাটির ভেতর যা দেখলেন, তাতে থমকে যান তিনি। দুটি বাটির ভেতরে পড়ে ছিল দুটি নবজাতক—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। দুজনেরই নিথর দেহ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া রোডের গফুর সড়কের বিপরীতে নতুন বাজার ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন ময়লার স্তূপ থেকে নবজাতক দুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রাতেই ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে যায়। পাশাপাশি পড়ে থাকা দুটি নবজাতকের মরদেহ দেখে স্থানীয়দের অনেকেই হতবাক হয়ে পড়েন।

ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে নজরে আসে দুটি বাটি

পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাকির হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি ওই এলাকায় ময়লা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। এ সময় ময়লার স্তূপের মধ্যে দুটি প্লাস্টিকের বাটি দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও কাছে গিয়ে বাটির ভেতরে নবজাতক দেখতে পান তিনি।

ঘটনাটি দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন।

জাকিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতক দুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

ময়লার স্তূপে কীভাবে এল, তদন্তে পুলিশ

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল-মামুন উল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকার কাছাকাছি টহলে ছিলেন। খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতক দুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

পরে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নবজাতক দুটির পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে তাদের মরদেহ ময়লার স্তূপে ফেলা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশপাশে একাধিক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, নতুন বাজার ও এর আশপাশে বেশ কয়েকটি বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো একটি জায়গা থেকে ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে নবজাতক দুটির মরদেহ সেখানে ফেলা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

তবে স্থানীয়দের এই ধারণার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির পর নবজাতক দুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও তাদের মরদেহ সেখানে ফেলার বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

পরিচয় শনাক্তে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ

ঘটনার পর পুলিশের তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নবজাতক দুটির পরিচয় শনাক্ত করা। তারা কোথায় জন্ম নিয়েছিল, তাদের জন্মের সঙ্গে কোনো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং কারা তাদের সেখানে রেখে গেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্য, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

দুটি নবজাতকের মরদেহ এভাবে ময়লার স্তূপে পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!