কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মেয়র পদপ্রার্থী ও খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাফিজ আহমেদ খান রাজু (৪৫)-এর ওপর সন্ত্রাসী হামলা, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। থানা থেকে অল্প দূরত্বে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে খোকসা থানাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির গেটের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কার্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম শেষ করে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন নাফিজ আহমেদ খান রাজু। বাড়ির গেটের সামনে পৌঁছানোর পর দুটি মোটরসাইকেলে আসা পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার পথরোধ করে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লোহার হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তার ডান পায়ে গভীর কোপ লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
রাজুর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলতে একাধিক ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা অন্তত ১৬ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে গুলির সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।
পরে স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, আহত রাজুর ডান পায়ে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। এছাড়া ডান হাতের বাহুর দুটি হাড় এবং বাম হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে রেফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাফিজ আহমেদ খান রাজু অভিযোগ করেন, আসন্ন খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে দিতে এবং হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তিনি আগেই প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও খোকসা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান পুরম বলেন, রাজুর চিৎকার শুনে বাইরে এসে তিনি হামলাকারীদের গুলি ছুড়তে এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটাতে দেখেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রাণ বাঁচাতে রাজু বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা গেট লক্ষ্য করেও গুলি চালায়। তার অভিযোগ, ঘটনার বেশ কিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

