ক্ষমতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা সরকার ভুলে গেলে তরুণরা তা মনে করিয়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত করার নামে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
১০ম গ্রেডের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবি, নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নামে বিএনপি সরকার ১০ম গ্রেডের নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন একটি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ম গ্রেডের নিয়োগ কার্যক্রম বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে সরিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কমিটির মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য ১০ম গ্রেডের পদের মতো এই পদেও দীর্ঘদিন ধরে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে আসছে।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় শূন্য পদের সংখ্যা পিএসসিকে জানায়। এরপর পিএসসি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এবং পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় নিয়োগ সম্পন্ন করে। ফলে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
‘পিএসসি কী পারছে না?’
পিএসসির অধীনে পরিচালিত নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত করার জন্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি প্রশ্ন করেন, পিএসসি কেন নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না এবং পিএসসি কোথাও এমন কথা বলেছে কি না যে তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছে না।
হাসনাতের অভিযোগ, শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়টি সামনে রাখা হলেও এর মাধ্যমে মূলত সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পছন্দের প্রার্থী নিয়োগের আশঙ্কা
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পেছনে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ থেকে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
তবে তার এসব বক্তব্য অভিযোগ ও আশঙ্কা হিসেবে এসেছে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ তুলে ধরেননি।
‘চব্বিশের অভ্যুত্থান কী ভুলে গেছে?’
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ থেকেই ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, নিয়োগে হাত দিয়ে দুর্নীতি করে লাভবান হওয়ার চিন্তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। একই সঙ্গে তিনি সরকারকে ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে সতর্ক করেন।
তার ভাষায়, “ক্ষমতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে চব্বিশের অভ্যুত্থান ভুলে গেলে সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই, তরুণরা জাগ্রত আছে।”
নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পিএসসির ভূমিকা, সরকারের নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেও সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বৈষম্য ও সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
এ অবস্থায় ১০ম গ্রেডের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আনা হলে সেটির উদ্দেশ্য, কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত করার নামে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়, যাতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয় কিংবা সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়ে নতুন করে বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ তৈরি হয়।

