ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

হাসনাতের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

হাসনাতের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। বক্তব্যের জন্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা না চাইলে জেলায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

সমাবেশে বক্তারা জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

তারা অভিযোগ করেন, সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৌকাবাইচ বন্ধের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা স্থানীয় মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

এ সময় বক্তারা হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

ক্ষমা না চাইলে এনসিপির কর্মসূচি বন্ধের ঘোষণা

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতারা ঘোষণা দেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না।

তারা জানান, শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে ওই কর্মসূচিও হতে দেওয়া হবে না।

সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় সরকারের সমালোচনা করেন।

সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

তার বক্তব্যের পরই স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ

কান্দিপাড়া থেকে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সমাবেশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে কোনো এলাকার ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট মানুষের অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাবমূর্তি ও স্থানীয় জনগণের অনুভূতি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে তাকে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার আশঙ্কা

হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে এনসিপির কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হওয়ার কথা থাকায় ওই কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে কোনো রাজনৈতিক দলের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংযম ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বক্তব্য ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান

একদিকে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ জাতীয় সংসদে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৌকাবাইচ বন্ধের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাঠে নেমেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

ফলে বিষয়টি এখন সংসদের বক্তব্যের গণ্ডি পেরিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা তাদের দাবি আদায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতি যাতে সংঘাতের দিকে না যায়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন মূল নজর শনিবারের কর্মসূচিতে

হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের পর কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের বিক্ষোভ এবং এনসিপির কর্মসূচি বন্ধের হুঁশিয়ারির কারণে এখন সবার নজর শনিবারের নির্ধারিত সাংগঠনিক কর্মসূচির দিকে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বক্তব্যের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা ক্ষমা চান কি না এবং কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ঘোষণার পর এনসিপির কর্মসূচি কীভাবে পরিচালিত হবে—তা নিয়েই এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

তবে এ ঘটনায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না করে মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!