সরকারি চাকরি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা শারমিন হেলালের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তার ও তার স্বামী মো. মাহমুদুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে দুদকে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, শারমিন হেলাল বর্তমানে ঢাকা কাস্টম হাউসে কর্মরত রয়েছেন। চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত কয়েক বছরে অন্তত চারবার থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফর করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সরকারি আদেশ (জিও) অথবা অনাপত্তিপত্র (NOC) গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে এসব বিধান অনুসরণ না করেই তিনি বিদেশ সফর করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
দুদকে জমা দেওয়া ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, শারমিন হেলাল দুটি পৃথক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ সফর করেন। অভিযোগে উল্লেখিত সফরগুলোর মধ্যে রয়েছে—
২০ ডিসেম্বর ২০১৭: পাসপোর্ট নম্বর BP08670** ব্যবহার করে থাইল্যান্ড (ফ্লাইট: TG340)।
১৫ ডিসেম্বর ২০১৮: একই পাসপোর্টে মালয়েশিয়া (ফ্লাইট: MH197)।
১৬ জানুয়ারি ২০২৩: নতুন পাসপোর্ট নম্বর B001421** ব্যবহার করে থাইল্যান্ড (ফ্লাইট: BG388)।
১৪ অক্টোবর ২০২৪: একই পাসপোর্টে পুনরায় থাইল্যান্ড সফর (ফ্লাইট: BS217)।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে,

শারমিন হেলাল ও তার স্বামী দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে তাদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন এবং কর্মস্থল ত্যাগ গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা চাকরি থেকে স্থায়ী অপসারণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শারমিন হেলালের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য চেয়ে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

