অক্টোবরে বাংলাদেশে এসে ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা যাচাই করতে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (CBF) পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে স্টেডিয়ামটি ঘুরে দেখেন তারা। মাঠের বর্তমান অবস্থা, খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা, গ্যালারি এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সরেজমিনে পরখ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
ব্রাজিল জাতীয় দলের জেনারেল সুপারভাইসর সার্জিও দিমাস দে অলিভেইরার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রায় ৪৫ মিনিট জাতীয় স্টেডিয়ামে অবস্থান করে। এ সময় তারা নতুন করে প্রস্তুত করা সবুজাভ মাঠ, খেলোয়াড়দের সাজঘর, গ্যালারি ও অন্যান্য সুবিধা ঘুরে দেখেন।
কলকাতা থেকে সরাসরি ঢাকায়
রোববার দুপুর ১টার দিকে কলকাতা থেকে ঢাকায় পৌঁছায় ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলটি। এরপর কোনো বিরতি না দিয়ে সরাসরি জাতীয় স্টেডিয়ামে যায় তারা।
এর আগে ভারতের কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামও পরিদর্শন করেছে দলটি। আগামী ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রীতি ম্যাচ সামনে রেখে স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি ও সুযোগ-সুবিধা পরখ করতেই কলকাতা সফর করে প্রতিনিধি দলটি।
কলকাতা পরিদর্শনের পর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ঘুরে দেখায় বাংলাদেশের মাটিতে ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে
স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জাতীয় স্টেডিয়াম নিয়ে ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিনিধি দলটি জানিয়েছে, জাতীয় স্টেডিয়ামকে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিপক্ষেও ব্রাজিল জাতীয় দলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনার কথা তারা জানিয়েছে।
ইকবাল হোসেন বলেন, মাঠের প্রস্তুতির কাজ এখনো চলমান রয়েছে। পুরো কাজ শেষ করতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে—এ তথ্যও প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে।
মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছে দল
ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মাঠের অবস্থা ও এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মাঠকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। মাঠে কীভাবে পানি দেওয়া হয়, বৃষ্টির পানি কীভাবে নিষ্কাশন করা হয় এবং মাঠের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা কেমন—এসব বিষয় তারা খুঁটিয়ে দেখেন।
এর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, গ্যালারি এবং স্টেডিয়ামের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পরিদর্শন করেন তারা।
স্টেডিয়ামের মাঠ আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচ আয়োজনের জন্য কতটা প্রস্তুত এবং খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব—মূলত এসব বিষয়ই প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিল।
মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে আরও সময় প্রয়োজন
ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলকে বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠের প্রস্তুতির কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। বর্তমানে মাঠকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে।
ইকবাল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠের কাজ সম্পন্ন করতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল ভবিষ্যতে আবারও স্টেডিয়াম পরিদর্শনে আসতে পারে।
এতে ধারণা করা হচ্ছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মাঠের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হওয়ার পর আবারও ভেন্যুটি মূল্যায়ন করতে পারে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন।
বাংলাদেশে এসে অনুশীলন করবে ব্রাজিল?
অক্টোবরে ব্রাজিল বাংলাদেশে এলে জাতীয় দলের অনুশীলন আয়োজন করা হবে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে। তবে স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময় এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন।
তিনি বলেন, প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জাতীয় দলের বাংলাদেশে এসে অনুশীলন করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
অর্থাৎ, আপাতত ব্রাজিলের বাংলাদেশ সফরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় স্টেডিয়ামের ভেন্যু হিসেবে উপযুক্ততা যাচাইয়েই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় দল ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন বাংলাদেশের ফুটবলের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ সংস্কার ও প্রস্তুতির পর জাতীয় স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনের জন্য কতটা প্রস্তুত হয়েছে, ব্রাজিলের মতো একটি শীর্ষ দলের প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন সেটি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে এখনই ঢাকায় ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা আসেনি। প্রতিনিধি দলের পরবর্তী মূল্যায়ন, মাঠের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অক্টোবরে বাংলাদেশে ব্রাজিলের উপস্থিতি দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় আকর্ষণের কারণ হতে পারে। তবে ম্যাচ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য এখনো অপেক্ষা করতে হবে।

