অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টেস্টে দারুণ ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে টাইগাররা। ফলে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২২৮ রান। ম্যাচে ফিরতে হলে অস্ট্রেলিয়াকে এখন এই লিড টপকে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিতে হবে।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আগের দুই দিনে ব্যাটারদের দৃঢ়তায় তৈরি হওয়া ভিতকে আরও শক্ত করার লক্ষ্য ছিল টাইগারদের। তবে দিনের শুরুতেই জশ হ্যাজেলউডের আঘাতে হাসান মাহমুদের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর তাইজুল ইসলাম কিছুটা সময় উইকেটে থেকে দলের লিড বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। তবে হ্যাজেলউডের বলে তার প্রতিরোধও থামে। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত অলআউট করার পথে এগিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ পেসার।
মিরাজের লড়াকু ৬৫
তাইজুলের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন তাসকিন আহমেদ। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে জুটি গড়ে তিনি বাংলাদেশের স্কোরকে আরও এগিয়ে নেন। দুজন মিলে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪৬ রান।
তবে দলীয় ৪১৮ রানে আবারও হ্যাজেলউডের আঘাত। তার বলে সাজঘরে ফেরেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মিরাজ ১৫৪ বলে ৬৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন।
মিরাজের উইকেটের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন হ্যাজেলউড। টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে নাম লেখান এই অজি পেসার।
মিরাজের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংস আর বেশিদূর এগোয়নি। স্কোরবোর্ডে মাত্র আরও ৮ রান যোগ করতেই শেষ দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন হ্যাজেলউড।
একাই ৬ উইকেট হ্যাজেলউডের
বাংলাদেশের ৪২৬ রানের ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার হ্যাজেলউড। একাই তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। মিচেল স্টার্ক পেয়েছেন ২ উইকেট। এ ছাড়া প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
তবে হ্যাজেলউডের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মধ্যেও বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। বিশেষ করে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে।
তানজিদের সেঞ্চুরি, শান্তর ৮৪
বাংলাদেশের ইনিংসের অন্যতম বড় শক্তি ছিল তানজিদ তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তিনি করেন ১০১ রান। তার ব্যাটিংয়ে ভর করে শুরুতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৮৪ রান করেন। এরপর মমিনুল হকের ৪৯ এবং মিরাজের ৬৫ রান দলীয় সংগ্রহকে ৪০০ পেরিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে ৪২৬ রানের সংগ্রহ বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির হলেও ম্যাচের ফল এখন নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ের ওপর। ২২৮ রানের লিড হাতে নিয়ে বাংলাদেশ এখন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের দ্রুত চাপে ফেলতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে আরও টেনে নিতে পারবে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—বাংলাদেশের লিড টপকে শুধু ম্যাচে ফেরাই নয়, বরং চতুর্থ ইনিংসে টাইগারদের সামনে জয়ের মতো লক্ষ্য দাঁড় করানো। ফলে তৃতীয় দিনের পরের সেশনগুলোই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

