অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস থেমেছে ২৮৪ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে পাওয়া লিডের সঙ্গে স্বাগতিকদের মোট ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫৬ রানে। তাই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে এখন মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য।
শেষ উইকেট হিসেবে নাথান লায়নকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। লায়নের উইকেট তুলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মিরাজ।
মিরাজের ঘূর্ণিতে ভেঙে পড়ল অস্ট্রেলিয়া
চতুর্থ দিন ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৬৭ রানে পিছিয়ে থাকা স্বাগতিকদের লক্ষ্য ছিল দ্রুত রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া। কিন্তু দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা চেপে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের।
বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজ একাই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। দিনের শুরু থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ম্যাচের গতিপথ বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেন।
ক্যারিকে ফিরিয়ে শুরু মিরাজের
দলীয় ১৭৮ রানে অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে। ৩০ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ ও লিটন কুমার দাসের জুটি। লিটনের ক্ষিপ্রতায় ক্যারির ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
এরপর দলীয় ১৯৩ রানে ৫ রান করা ওয়েবস্টারকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন মিরাজ। মাত্র ১৫ রান যোগ করতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
কামিন্সকেও ফেরান মিরাজ
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে টিকতে পারেননি। মাত্র ৮ রান করে মিরাজের বলে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তাঁর বিদায়ে ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর লাঞ্চের পর তাসকিন আহমেদের বলে মিচেল স্টার্ক ১৮ রান করে লিটন কুমার দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন। ২৫০ রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে আরও বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
সেঞ্চুরি করেও গ্রিনের শেষ রক্ষা হয়নি
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরন গ্রিন। দলের একের পর এক ব্যাটার যখন দ্রুত সাজঘরে ফিরছিলেন, তখন একপ্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্য ধরে ব্যাট করেন তিনি।
গ্রিন তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। চারটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই ছিল তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি গ্রিন। ১০৪ রানে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট শিকার করা হাসান দ্বিতীয় ইনিংসেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের জন্য বড় ব্রেকথ্রু এনে দেন।
গ্রিনের বিদায়ে ৯ উইকেটে বড় লিড নেওয়ার অস্ট্রেলিয়ার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
শেষ আঘাত মিরাজের, লক্ষ্য ৫৭
শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নাথান লায়নকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। লায়ন রিভিউ নিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।
অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২৮৪ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পাওয়া লিড যোগ করে অস্ট্রেলিয়ার মোট লিড দাঁড়ায় ৫৬ রানে। ফলে ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৫৭ রান।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয়ের হাতছানি
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশ এখনো জয় পায়নি। এবার সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার দারুণ সুযোগ এসেছে টাইগারদের সামনে। হাতে থাকা লক্ষ্যও খুব ছোট—মাত্র ৫৭ রান।
তবে টেস্ট ক্রিকেটে ছোট লক্ষ্যও কখনো সহজ নয়। নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা নিতে পারে। তাই দ্রুত উইকেট না হারিয়ে ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্য পেরোতে পারলেই ইতিহাসের দ্বার খুলে যাবে বাংলাদেশের সামনে।
মিরাজের পাঁচ উইকেট, হাসান মাহমুদের গুরুত্বপূর্ণ আঘাত এবং বাংলাদেশের বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই টাইগারদের হাতে। বাকি শুধু ৫৭ রান—আর সেই রান পেরোতে পারলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বে বাংলাদেশ।

