ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য বন্ধ ফুয়াং ফুডের কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১০:২৬ এএম

গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য বন্ধ ফুয়াং ফুডের কারখানা

ছবিঃ সংগৃহীত

গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়া এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ফুয়াং ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তাদের কারখানা ছয় মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বাড়তি ব্যয়ে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (২২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় কারখানায় লে-অফ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ আগস্ট থেকেই লে-অফ কার্যকর হয়েছে এবং আগামী ছয় মাস তা বহাল থাকবে।

গ্যাসের চাপ না থাকায় ব্যাহত উৎপাদন

ফুয়াং ফুডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

শিল্পকারখানার উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত চাপ না থাকলে উৎপাদনযন্ত্রের সক্ষমতা অনুযায়ী কার্যক্রম চালানো যায় না। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি কারখানার পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যায়।

ফুয়াং ফুডের ক্ষেত্রেও গ্যাসের সংকট উৎপাদন কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।

বাড়ছে কাঁচামালের দাম

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিও কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রমে চাপ তৈরি করেছে।

কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাড়তি ব্যয় বহন করে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কোম্পানির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই দুই কারণে আপাতত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ।

২২ আগস্ট থেকে ছয় মাস লে-অফ

পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে পরবর্তী ছয় মাস ফুয়াং ফুডের কারখানায় লে-অফ কার্যকর থাকবে।

অর্থাৎ, কোম্পানির ঘোষণার ভিত্তিতে এই সময়ের মধ্যে কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী সময়ে কারখানা চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

তবে ছয় মাস পর কারখানাটি ঠিক কবে এবং কী পরিস্থিতিতে পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

শিল্প খাতে গ্যাস সংকটের প্রভাব

দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ ও চাপের সংকট নিয়ে শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটছে।

এর মধ্যেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের ছয় মাসের লে-অফ ঘোষণাকে শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকটের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

ফুয়াং ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তটি কোম্পানির উৎপাদন, বিক্রয়, আয় ও ভবিষ্যৎ আর্থিক ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে—তা বিনিয়োগকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ছয় মাস উৎপাদন বন্ধ থাকলে কোম্পানির রাজস্ব ও পরিচালন কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কাঁচামালের মূল্য ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কোম্পানিটির উৎপাদন ব্যয়ের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও নজরে থাকবে।

কোম্পানির পক্ষ থেকে ডিএসইকে দেওয়া তথ্যে কারখানা লে-অফের প্রধান কারণ হিসেবে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না পাওয়া এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং কাঁচামালের বাজারদর স্থিতিশীল না হলে উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এ ধরনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!