শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকা কিংবা সীমিত সক্ষমতায় চলা অনেক কারখানা ধীরে ধীরে উৎপাদনে ফিরতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বরং গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ফলে শিল্প উৎপাদনে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘দ্বিমুখী জ্বালানি সংকট’।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রপ্তানিমুখী শিল্পে। নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন ও শিপমেন্ট দিতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার বাতিলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক উদ্যোক্তাকে গুনতে হচ্ছে জরিমানা। নতুন করে অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রেও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু বর্তমান সংকট সামাল দিলেই হবে না; ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে শিল্পকারখানা কীভাবে উৎপাদন চালু রাখবে, তার জন্য এখনই একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ‘ব্যাকআপ পরিকল্পনা’ তৈরি করা জরুরি। বিকল্প জ্বালানিচালিত বয়লার, জেনারেটর ও অন্যান্য সরঞ্জাম স্থাপনে প্রয়োজন হতে পারে সহজ শর্তের ঋণ ও সরকারি প্রণোদনা।
মহেশখালীর টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সংকট তীব্র
শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। তবে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
এ ঘটনার প্রভাবে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। কারণ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ গ্যাসনির্ভর। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমলে একদিকে সরাসরি শিল্পকারখানার গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে বাড়ে লোডশেডিং।
অর্থাৎ, একটি সংকট আরেকটি সংকটকে আরও তীব্র করছে। এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে উৎপাদনমুখী শিল্পাঞ্চলগুলোতে।
গ্যাস কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু কাটেনি ভোগান্তি
শনিবার ভোর থেকে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়ার খবর পাওয়া গেলেও অনেক কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন এখনও ফেরেনি। কোথাও গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় কম, কোথাও আবার নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, গ্যাস কখন আসবে, তা অনেক সময় আগে থেকে নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। ফলে উৎপাদন পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি কারখানায় প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে সেই পরিকল্পনা বারবার ভেস্তে যাচ্ছে। গ্যাস এলেও তখন অল্প সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব উৎপাদন করার চেষ্টা করতে হচ্ছে।
এক উদ্যোক্তার ভাষ্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ছয় ঘণ্টার মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও অনেক সময় গভীর রাতে। দিনের বেলায় অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলেও সেই সময়ের মধ্যে জরুরি কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা করতে হচ্ছে। এতে যে উৎপাদন প্রতিদিন ২০ হাজার ইউনিট হওয়ার কথা, তা কমে ৩ থেকে ৪ হাজার ইউনিটে নেমে এসেছে।
গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিং
শিল্পাঞ্চলে সরেজমিন চিত্রে দেখা গেছে, গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সমস্যা রয়ে গেছে। অনেক কারখানায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন প্রক্রিয়া মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং শ্রমিকদেরও নির্ধারিত সময়ের আগেই বিরতিতে পাঠাতে হচ্ছে।
উৎপাদন সচল রাখতে বাধ্য হয়ে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। কিন্তু এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ।
বিশেষ করে পোশাক শিল্পের ডায়িং, ওয়াশিং ও ফিনিশিংয়ের মতো বিভাগগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বেশি। এসব পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ না থাকলে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
গাজীপুরে বন্ধ প্রায় ১৫ শতাংশ কারখানা
গাজীপুর জেলা ও মহানগর এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, গ্যাস সংকটের কারণে গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ কারখানার উৎপাদন কোনো না কোনোভাবে বন্ধ বা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, একটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকা মানে শুধু ওই দিনের উৎপাদন ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে শ্রমিকের মজুরি, মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ, কাঁচামালের ব্যবহার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় এবং ক্রেতার কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়।
একটি ধাপ পিছিয়ে গেলে পুরো সাপ্লাই চেইনেই তার প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে পোশাকশিল্পে সুতা, বুনন, ডায়িং, ওয়াশিং, ফিনিশিং ও প্যাকেজিং—প্রতিটি ধাপ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। কোনো একটি ধাপে বিলম্ব হলে পুরো অর্ডারের শিপমেন্ট পিছিয়ে যেতে পারে।
বাতিল হচ্ছে বিদেশি অর্ডার
জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখন রপ্তানি খাতে। উদ্যোক্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে পণ্য তৈরি ও শিপমেন্ট দিতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার বাতিলের ঘটনা ঘটছে।
এক উদ্যোক্তা বলেন, ইতোমধ্যে তাদের বেশ কিছু অর্ডার ক্রেতারা বাতিল করেছেন। কারণ নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট দেওয়া সম্ভব হয়নি। তার ভাষায়, গার্মেন্টস শিল্পে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া একটি চেইনের মতো। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বা গ্যাস না থাকলেও যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা সবসময় দিনের অন্য সময়ে পূরণ করা সম্ভব হয় না।
শুধু অর্ডার বাতিল নয়, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাকে জরিমানা দিতে হয়। এতে একদিকে সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদেশি ক্রেতারাও নিচ্ছেন জ্বালানি পরিস্থিতির খোঁজ
শিল্পোদ্যোক্তাদের কাছে বিদেশি ক্রেতাদের অন্যতম প্রশ্ন এখন—বাংলাদেশে উৎপাদন কতটা নিরবচ্ছিন্ন? গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ কেমন? কোনো অর্ডার দিলে নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট দেওয়া সম্ভব হবে কি না?
রপ্তানিনির্ভর শিল্পে ক্রেতার আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশ যদি নিয়মিত সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারে, তাহলে ক্রেতারা বিকল্প উৎপাদন বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ফলে জ্বালানি সংকট এখন শুধু উৎপাদন ব্যয়ের সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
সাভার-নারায়ণগঞ্জেও সংকট
সাভার শিল্পাঞ্চলে আগের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পোশাক কারখানার ডায়িং, ওয়াশিং ও ফিনিশিং বিভাগগুলোতে সংকট সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানায় শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন না হলেও শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় চালিয়ে যেতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।
একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের নিটওয়্যার শিল্পেও। শিল্পোদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে উৎপাদন সক্ষমতা কমার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগও নিরুৎসাহিত হবে।
নরসিংদীতে ৮০ শতাংশ কারখানা বন্ধের ধাক্কা
নরসিংদীতে সংকটের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং কারখানা কোনো না কোনো সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
সম্প্রতি গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লেও অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই ধরনের সংকটের মুখে খাদ্য, ওষুধ, সিরামিকসহ অন্যান্য শিল্পও।
শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, বিকল্প জ্বালানি দিয়ে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালানো সম্ভব হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। কারণ ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের দাম এবং ব্যবহারের খরচ গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও কমতে পারে।
‘টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ’
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, এখন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেয়ে শিল্প টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।
তার মতে, সরকারেরও হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে সংকট সমাধানের সুযোগ সীমিত। কিন্তু যে অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভবিষ্যতে আবার একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—তার পরিকল্পনা এখনই করতে হবে।
তিনি মনে করেন, শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি জ্বালানি ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কারণ শুধু একটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল থাকলে ভবিষ্যতে যেকোনো দুর্ঘটনা বা অবকাঠামোগত সমস্যায় পুরো শিল্পখাত বিপর্যস্ত হতে পারে।
বিকল্প বয়লার-জেনারেটরের জন্য সহজ ঋণের দাবি
শিল্পে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনার দাবি উঠেছে।
অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হাসান বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বয়লার ও জেনারেটর কেনার জন্য কম সুদের ঋণ দেওয়া যেতে পারে। তার প্রস্তাব—প্রায় আড়াই শতাংশ সুদে সফট লোনের ব্যবস্থা করা।
তার মতে, খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে এ ধরনের ঋণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিল্পোদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তি পরিবর্তন করতে চাইলে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ গ্যাসের মজুত
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের আরেকটি মৌলিক কারণ দেশের নিজস্ব গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা। দেশে দ্রুত গ্যাসের মজুত কমে আসছে। বর্তমান উৎপাদন প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে উৎপাদনশীল অনেক গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে শুধু বর্তমান সংকট সাময়িকভাবে কাটিয়ে ওঠাই যথেষ্ট নয়। গ্যাস অনুসন্ধান, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, আমদানিকৃত এলএনজির সরবরাহ নিশ্চিতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার—সবগুলো বিষয়কে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।
শিল্পের জন্য এখনই প্রয়োজন ‘ব্যাকআপ পরিকল্পনা’
বিশেষজ্ঞ ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের মতো কোনো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ যাতে একসঙ্গে থেমে না যায়, সেজন্য ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল এনার্জি রেজিলিয়েন্স’ বা শিল্পের জ্বালানি স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা জরুরি।
এর আওতায় শিল্পাঞ্চলভিত্তিক বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, জরুরি গ্যাস সরবরাহ পরিকল্পনা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিকল্প বয়লার ও জেনারেটর স্থাপনে প্রণোদনা এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যেতে পারে।
কারণ গ্যাসের চাপ সাময়িকভাবে বাড়লেই সংকট শেষ হয়ে যায় না। শিল্পের জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ।
এখন গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে, উৎপাদনেও ফিরছে কিছু কারখানা। কিন্তু অর্ডার বাতিল, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রমিক বসিয়ে রাখা এবং বিকল্প জ্বালানির বাড়তি খরচ—এসব ক্ষতি এক দিনে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
শিল্পোদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, বর্তমান সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না; রপ্তানি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
তাই এখন মূল প্রশ্ন শুধু ‘গ্যাস কখন আসবে’—তা নয়। প্রশ্ন হলো, আগামী দিনে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহে বড় কোনো বিপর্যয় হলে দেশের শিল্পকারখানাকে কীভাবে সচল রাখা হবে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে একটি কার্যকর জাতীয় জ্বালানি ব্যাকআপ পরিকল্পনা এখনই চূড়ান্ত করা জরুরি।

