ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

সাঘাটায় মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম

খ ম মিজানুর রহমান রাঙ্গা /গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ১১:০৯ এএম

সাঘাটায় মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম

ছবিঃ সংগৃহীত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারের প্রতি শিক্ষকদের আগ্রহ বেশি থাকা, বিদ্যালয়ে পাঠদানে অবহেলা, শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা, বিগত দিনে ঢালাও ভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক সুষ্ঠু তদারকির অভাব সহ নানা কারনে উপজেলার বেশিরভাগ মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়েছে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের উল্যাসোনাতলা আফজালুর রাব্বি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার এসএসসিতে ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২জন। প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল বিপর্যয়ে হতাশ হয়েছেন এলাকার অভিভাবকরা। মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। তারা নিয়মিত বেতন ভাতা ও সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও মাদ্রাসাটির শিক্ষার পরিবেশের প্রতি তেমন নজরদারী না থাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকার অভিভাবক মহলে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সুপারিনটেনডেন্ট নুরুজ্জামান দিনের বেশিরভাগ সময়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে জমিজমার মাপ যোখের কাজে (সার্ভেয়ার বা আমীন) ব্যস্ত থাকেন। এ ব্যাপারে কথা হলে প্রতিষ্ঠানটির সুপারিনটেনডেন্ট নুরুজ্জামান বলেন, এসবের উত্তর দিতে পারবো না। আপনার কোন কথা থাকলে প্রতিষ্ঠানে এসে বলেন। এছাড়াও হলদিয়া ইউনিয়নের থৈকরেরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, সিলমানের পাড়া দাখিল মাদ্রাসা, কুন্দপাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়, কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, উল্যাসোনাতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সাঘাটা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বাদিনার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, খামার ধনারুহা দাখিল মাদ্রাসা, গোবিন্দপুর দাখিল মাদ্রাসা সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবার পাশের হারের করুণ অবস্থা। এসব প্রতিষ্ঠানে পাশের হার অত্যন্ত নাজুক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হলদিয়া, সাঘাটা, জুমারবাড়ী ও কামালেরপাড়া ইউনিয়নে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে দুপুর একটার পরেই শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে চলে যান। যে কারণে দুপুরের পর প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী শূন্যতা বিরাজ করে। 

অতি সম্প্রতি উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ও থৈকড়ের পাড়া দাখিল মাদ্রাসায় সরেজমিন দুপুর দেড়টায় গিয়ে কোন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, এলাকার লোকজন পাটখড়ি শুকানোর কাজ করছেন। কানাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, সকাল থেকে মাদ্রাসায় কেউ আসেনি। তাই আমরা পাটখড়ি শুকাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানটির সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল খালেক মুঠোফোনে জানান, আমরা নিয়মিত ক্লাস নেই। আগের দিনের ছুটি পরের দিন ভোগ করেছি আমরা। তাই কেউ আসেনি। ওইদিন দুপুর ২ টায় থৈকররপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় সরেজমিন গিয়ে কোন শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সুপারিনটেনডেন্ট শাহ আলম বলেন, আমরা সকল শিক্ষক উপস্থিত রয়েছি। শিক্ষার্থীরা আজকে একটু আগেই গেছে। তবে এমনটা প্রতিদিনই হয় না বলেও দাবি করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধুই নাম সর্বস্ব। শিক্ষকরা যেমন সময় মতো আসেন না। তেমনি ছাত্র-ছাত্রীরাও সপ্তাহে দুই একদিন আসে। এমন অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোন পদক্ষেপ নেই বলেও জানান তারা। যে কারণে এর প্রভাব পড়েছে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে। 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫৯ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থেকে মোট ৩ হাজার ৭শ ৩১ জন শিক্ষার্থী এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র এক হাজার ৭ শ ৬৯ জন।
এদিকে গত ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহসান হাবিব অবসর গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত নতুন কেউ যোগদান করেননি। এ পদটি শূন্য থাকার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিকভাবে তদারকি হচ্ছে না বলে জানালেন, বোনারপাড়া এলাকার সুজন মিয়া। 
এসব বিষয়ে কথা হলে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর রাখছি। এ বিষয়ে উপরে জানানো হবে। 
সাঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে থাকা জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান জানান, আমরা অফিসিয়ালি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরেজমিন ভিজিট করছি। শিক্ষকদের গাফিলতি পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল কবীর বলেন, সরকারি নিয়ম নীতি না মেনে চললে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!