ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

গাবতলীতে জমি বিক্রির পর দলিল রেজিস্ট্রিতে টালবাহানার অভিযোগ, বাড়ি নির্মাণে বাধা

গাবতলী প্রতিনিধি, আমিনুল আকন্দ

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম

গাবতলীতে জমি বিক্রির পর দলিল রেজিস্ট্রিতে টালবাহানার অভিযোগ, বাড়ি নির্মাণে বাধা

ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুরে জমি বিক্রি করে বায়নানামা ও পরবর্তীতে দলিল সম্পাদনের পরও ক্রেতার নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দিতে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ক্রয়কৃত জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে থানায় পাল্টা অভিযোগ করেছেন জমির বিক্রেতা।

ঘটনাটি উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের নজরারপাড়া গ্রামের। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ তৈরি হওয়ায় জমিটির মালিকানা, বিক্রয় চুক্তি, দলিল সম্পাদন এবং রেজিস্ট্রির বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নজরারপাড়া গ্রামের মো. ইবাদালীর ছেলে আব্দুল মতিনের কাছ থেকে একই গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে লিমন ইসলাম ডওর মৌজার সাবেক ১৭৮৮ ও হাল ৪৪৬২ নম্বর দাগের ১০ শতক জমি কেনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।

বায়নানামায় ২ লাখ টাকা, পরে পরিশোধের দাবি

লিমন ইসলামের দাবি, ২০২০ সালের ২১ নভেম্বর জমিটি কেনার জন্য আব্দুল মতিনের সঙ্গে বায়নানামা সম্পাদন করা হয়। ওই সময় চুক্তির অংশ হিসেবে আব্দুল মতিনকে নগদ ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

বায়নানামা সম্পাদনের পর থেকে তিনি ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলেও দাবি করেছেন লিমন ইসলাম। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও জমিটি দীর্ঘদিন ধরে লিমনের দখলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

লিমনের অভিযোগ, পরবর্তীতে জমির মূল্য বাবদ চুক্তিকৃত অর্থের পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর আব্দুল মতিন জমির দলিল সম্পাদন করলেও ক্রেতার নামে দলিলটি রেজিস্ট্রি করে দিতে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ শুরু করেন।

লিমনের দাবি, জমির টাকা পরিশোধ ও দলিল সম্পাদনের পরও রেজিস্ট্রির বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখায় তিনি সমস্যায় পড়েছেন।

বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

ক্রেতার দাবি, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তার ভোগদখলে রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে বাড়িঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে আব্দুল মতিন বাধা দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে। একপর্যায়ে আব্দুল মতিন গাবতলী মডেল থানায় অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।

বর্তমানে ওই অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছেন গাবতলী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ।

তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘জমি বিক্রি করে দিয়েছেন, এরপর থেকেই ভোগদখলে’

বিষয়টি সম্পর্কে সুখানপুকুর ইউনিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাপী বেগম বলেন, ‘জমিটি আব্দুল মতিন একই গ্রামের লিমন ইসলামের কাছে বিক্রি করেছেন। এরপর থেকেই লিমন ইসলাম জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধির এমন বক্তব্যে জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের লেনদেন ও ভোগদখলের বিষয়টি সামনে এলেও চূড়ান্ত মালিকানা এবং রেজিস্ট্রির আইনগত অবস্থান নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই প্রয়োজন।

কাগজপত্র যাচাইয়ে মিলতে পারে বিরোধের সমাধান

জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে বায়নানামা, টাকা পরিশোধের প্রমাণ, সম্পাদিত দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, নামজারি ও দখলের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় এসব নথিপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জমির মূল্য বাবদ কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, দলিলটি কীভাবে ও কার নামে সম্পাদিত হয়েছে এবং কেন এখনো রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, জমিতে বাড়িঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগেরও আইনগত ভিত্তি ও প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা দরকার।

এ বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য, জমির মূল দলিল, বায়নানামা, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং ভূমি-সংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করে আইন অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জমি বিক্রির পর অর্থ গ্রহণ, দলিল সম্পাদন ও ভোগদখলের পরও রেজিস্ট্রি নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!