ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

১৬৭ দিনের শূন্যতা শেষে দুদকে নতুন নেতৃত্ব, আস্থা ফেরানোর কঠিন পরীক্ষায় কমিশন

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ১০:২৭ এএম

১৬৭ দিনের শূন্যতা শেষে দুদকে নতুন নেতৃত্ব, আস্থা ফেরানোর কঠিন পরীক্ষায় কমিশন

ছবিঃ সংগৃহীত

নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান ও দুই কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ; স্বাধীনভাবে কাজ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ও আটকে থাকা অনুসন্ধান-তদন্তে গতি ফেরানোর প্রত্যয় । দীর্ঘ ১৬৭ দিনের নেতৃত্বশূন্যতার অবসান ঘটিয়ে নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন কমিশন প্রথম দিনেই স্বাধীনভাবে কাজ করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং মানুষের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

নতুন কমিশনের সামনে এখন একদিকে যেমন দীর্ঘদিন আটকে থাকা অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলার কার্যক্রমে গতি ফেরানোর চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তেমনি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে দুদকের গ্রহণযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কঠিন পরীক্ষা।

প্রথম দিনেই ব্যস্ততা, কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং দুই কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

সকাল ১০টার দিকে দুদক সচিব সাইদুর রহমান, মহাপরিচালক এবং উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা। দীর্ঘদিন কমিশন না থাকায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে ছিল, সেগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সংস্থার সার্বিক কার্যক্রম দ্রুত গতিশীল করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন নতুন কমিশনের সদস্যরা।

পরে মহাপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান-তদন্তের অবস্থা, মামলার অগ্রগতি, জনবল, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অভিযোগের বিষয়ে তারা খোঁজ নেন।

‘মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে চাই’

কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যেন মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের জন্য কাজ করতে পারি। দুদকের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে পারি। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে যথেষ্ট চেষ্টা করতে পারি। ইনশাল্লাহ আগামী দিনে ভালো ফল আনব।”

দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করতে গিয়ে কোনো ধরনের চাপের মুখে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ, আমরা কোনো চাপের মধ্যে নেই। আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করছি। আমাদের সামনে কোনো সমস্যা আসলে তা সমাধান করার চেষ্টা করব। মানুষের প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই আমরা এখানে আসছি।”

নতুন চেয়ারম্যানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের প্রভাবের বাইরে থেকে দুদকের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাইছে নতুন কমিশন।

আস্থা ফেরানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

দুদকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনে করছেন, নতুন কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। দীর্ঘদিন ধরে দুদকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রভাবশালীদের বিষয়ে নরম অবস্থান এবং দায়মুক্তির অভিযোগ রয়েছে।

তাদের মতে, নতুন কমিশনের কার্যকারিতা শুধু কতটি মামলা হলো বা কতজন গ্রেপ্তার হলেন—এ দিয়ে পরিমাপ হবে না। বরং কোন অভিযোগে কতটা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান হয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কমিশন কতটা স্বাধীনতা দেখিয়েছে এবং দুর্নীতির অর্থ উদ্ধার ও আইনি নিষ্পত্তিতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে—এসবের ওপরই নির্ভর করবে নতুন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন জমে থাকা অভিযোগ ও তদন্তের পাহাড় দ্রুত নিষ্পত্তি করতে গিয়ে যাতে তদন্তের মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে কমিশনকে।

আটকে আছে বহু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম

চলতি বছরের ৩ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগ করার পর কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে দুদক। এরপর টানা ১৬৭ দিন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য ছিল।

দুদকের নিয়মিত অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে চললেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় অনেক কাজই পূর্ণাঙ্গভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দুদক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১৭৯টি অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৯২টি, ফেব্রুয়ারিতে ৮৭টি এবং মার্চে ২৭টি অভিযোগ ছিল।

একই সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য মোট ৫৪টি নোটিশ জারি করা হয়। জানুয়ারিতে ১৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৭টি এবং মার্চে ২০টি নোটিশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ওই তিন মাসে ৬৯১টি মামলা বা এফআইআর এবং ২২২টি চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্য পাওয়া যায়। তবে কমিশন পদত্যাগের পর গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় কার্যক্রমে স্থবিরতা আসে।

এখন নতুন কমিশনের দায়িত্ব হলো আটকে থাকা এসব কার্যক্রমের তালিকা তৈরি করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া।

‘কমিশন অভিভাবক, কাজ করবেন কর্মকর্তারাই’

দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, কমিশন নেতৃত্ব দেবে এবং অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবে; কিন্তু সংস্থার মূল কাজ করতে হবে কর্মকর্তাদেরই।

অর্থাৎ অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, সততা ও দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় নতুন কমিশন।

কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ বিচারক কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন। তার নেতৃত্বে প্রতিটি বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খানও বলেন, নতুন দুদকের পরিচয় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে তাদের কাজের মাধ্যমে।

নতুন কমিশনের সামনে কয়েকটি বড় পরীক্ষা

নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কয়েকটি বিষয়।

প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভিযোগ, অনুসন্ধান ও তদন্ত দ্রুত নিষ্পত্তি করা। দ্বিতীয়ত, আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতির অভিযোগে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়া। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

এর পাশাপাশি দুদকের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, তদন্তের মান উন্নত করা এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে কার্যকর কৌশল নেওয়াও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন কমিশনে বিচার, প্রশাসন ও রাজস্ব অভিজ্ঞতার সমন্বয়

নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। দীর্ঘ সময় হাইকোর্ট বিভাগে দায়িত্ব পালনের পর আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন।

কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

অন্য কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান একজন সাবেক সচিব। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।

ফলে নতুন কমিশনে বিচার বিভাগ, রাজস্ব প্রশাসন ও সরকারি প্রশাসনের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটেছে। এখন এই অভিজ্ঞতা দুর্নীতি দমনের কাজে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিই দেখার বিষয়।

সার্চ কমিটির দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় গঠিত নতুন কমিশন

নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ২২ জুন। দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭ অনুযায়ী কমিশনার নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করা হয়।

আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে গঠিত সার্চ কমিটিতে ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এবারই প্রথম সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে আবেদন আহ্বান করা হয়। ২ জুলাই আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ১৩ জুলাই শেষ হয়। তিনটি পদে তিন শতাধিক আবেদন জমা পড়ে।

আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সাবেক সচিব, সামরিক কর্মকর্তা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী এবং প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা।

যোগ্যতা, সততা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানসহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সার্চ কমিটি প্রার্থী বাছাই করে। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠিত হয়।

২১ বছরে সাত কমিশন, বিতর্কও কম নয়

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর ২১ বছরে মোট সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে।

তবে সব কমিশন পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক চাপ ও নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে একাধিক কমিশন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নিয়েছে।

প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান হোসেন খান ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিশন পুনর্গঠিত হয়। তার সময়ে দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনিও পদত্যাগ করেন।

পরবর্তী সময়ে গোলাম রহমান, মো. বদিউজ্জামান, ইকবাল মাহমুদ এবং মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর নেতৃত্বে কমিশন দায়িত্ব পালন করে।

হলমার্ক, ডেসটিনি, পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন আলোচিত দুর্নীতির ঘটনায় দুদকের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কখনো কঠোর অবস্থানের জন্য প্রশংসিত হয়েছে সংস্থাটি, আবার কখনো প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে।

সর্বশেষ ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পেলেও প্রায় ১৫ মাসের মাথায় চলতি বছরের ৩ মার্চ পদত্যাগ করে।

কাজ দিয়েই প্রমাণ করতে হবে নতুন দুদককে

দীর্ঘ নেতৃত্বশূন্যতার পর নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ায় দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তবে শুধু নতুন নেতৃত্ব দিয়ে সংস্থার ভাবমূর্তি বদলানো সম্ভব নয়—এমন মত সংশ্লিষ্টদের।

নতুন কমিশনকে এখন প্রমাণ করতে হবে, দুদক রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে পারে, বড় দুর্নীতির অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারে এবং ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সক্ষম।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও টেকসই ফলাফল, তদন্তে পেশাদারিত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলেই মানুষের আস্থা ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অবশেষে ১৬৭ দিনের শূন্যতা কাটিয়ে দুদকে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব ফিরেছে। এখন অপেক্ষা—নতুন কমিশনের প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তব কাজে রূপ নেয় এবং দীর্ঘদিনের বিতর্ক পেছনে ফেলে দুর্নীতি দমন কমিশন সত্যিকার অর্থে কতটা স্বাধীন, কার্যকর ও জনআস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!