ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

শাহজালালে দুদিনের ব্যবধানে ফের ১৪ কেজি সোনা জব্দ, বেল্টে লুকানো ছিল ১২০ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

শাহজালালে দুদিনের ব্যবধানে ফের ১৪ কেজি সোনা জব্দ, বেল্টে লুকানো ছিল ১২০ বার

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুদিনের ব্যবধানে ফের বিপুল পরিমাণ সোনার চালান জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউজ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে ১৩ দশমিক ৯২ কেজি ওজনের ১২০টি সোনার বার জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউজ।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার মো. সোয়েব গাজীর প্যান্টের বেল্টের মধ্যে লুকানো অবস্থায় এসব সোনার বার পাওয়া যায়। কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় সোনার বারগুলো গোপনে বহনের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।

দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা ফ্লাইটে তল্লাশি

ঢাকা কাস্টমস হাউজের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার সকালে তাদের কাছে তথ্য আসে—দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সোনার চালান আনা হচ্ছে।

তথ্যের ভিত্তিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তা ও প্রিভেন্টিভ টিমের সদস্যরা দ্রুত তল্লাশির জন্য বিমানে উপস্থিত হন।

তল্লাশির একপর্যায়ে বিমানটির অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার মো. সোয়েব গাজীর গতিবিধি ও বহন করা সামগ্রীর ওপর নজর দেওয়া হয়। পরে তার প্যান্টের বেল্টের ভেতরে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কিছু বস্তু দেখতে পান কর্মকর্তারা।

সন্দেহ হওয়ায় তল্লাশি চালানো হলে সেখান থেকে একে একে ১২০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা সোনার মোট ওজন ১৩ হাজার ৯২০ গ্রাম বা ১৩ দশমিক ৯২ কেজি। এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

দুদিন আগেও জব্দ হয়েছিল ৯ কেজির সোনা

শাহজালাল বিমানবন্দরে সর্বশেষ এই সোনার চালান জব্দের মাত্র দুদিন আগেও বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল।

বুধবার রাতে বিমানবন্দর থেকে মালিকহীন অবস্থায় ৮০টি সোনার বার জব্দ করে ঢাকা কাস্টমস হাউজ। ওই চালানে থাকা প্রতিটি বারের ওজন ছিল ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম। সব মিলিয়ে ওই চালানের মোট ওজন ছিল ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম বা প্রায় ৯ দশমিক ৩৩১ কেজি।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জব্দ করা ওই সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ মাত্র দুদিনের ব্যবধানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ২৩ কেজি সোনা জব্দের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউজ।

গোপনে সোনা বহনের নতুন কৌশল নিয়ে প্রশ্ন

সর্বশেষ অভিযানে সোনার বারগুলো যেভাবে লুকিয়ে বহনের চেষ্টা করা হয়েছে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সাধারণত বিমানবন্দরে চোরাচালান ঠেকাতে যাত্রীদের লাগেজ, শরীর ও সন্দেহজনক সামগ্রী তল্লাশি করা হয়। তবে এবার বিমানের একজন কর্মীর পোশাকের বেল্টের মধ্যে বিপুল পরিমাণ সোনা পাওয়া যাওয়ায় নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

একসঙ্গে ১২০টি সোনার বার বহনের ঘটনায় এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সোনার চালানটির গন্তব্য কোথায় ছিল এবং কার কাছে এটি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

তবে এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের দায় বা সোনার চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

ঢাকা কাস্টমস হাউজ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই শনিবারের অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তা ও প্রিভেন্টিভ টিমের সঙ্গে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সমন্বিতভাবে তল্লাশি কার্যক্রমে অংশ নেন।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে প্রবেশ করা ফ্লাইট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়।

এ ধরনের সমন্বিত অভিযান বিমানবন্দর ব্যবহার করে সোনা চোরাচালানের চেষ্টা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুদিনে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার সোনা

ঢাকা কাস্টমস হাউজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে জব্দ করা ৮০টি সোনার বারের আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা। আর শনিবার উদ্ধার হওয়া ১২০টি সোনার বারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

দুটি চালান মিলিয়ে আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

ওজনের হিসাবে বুধবারের ৯ দশমিক ৩৩১ কেজি এবং শনিবারের ১৩ দশমিক ৯২ কেজি—দুই চালান মিলিয়ে জব্দ সোনার পরিমাণ প্রায় ২৩ দশমিক ২৫ কেজি।

অল্প সময়ের ব্যবধানে এত বিপুল পরিমাণ সোনা জব্দের ঘটনায় শাহজালাল বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে সোনা চোরাচালানের চেষ্টা প্রতিরোধে কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চোরাচালান ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের প্রয়োজন

সোনা চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও অবৈধ অর্থের লেনদেনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে এ ধরনের ঘটনা।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটে যাত্রীদের পাশাপাশি বিমানবন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমেও অবৈধ পণ্য পরিবহনের চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ ঘটনায় একজন বিমানকর্মীর পোশাকের বেল্টের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের বিষয়টি বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও কর্মীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে চোরাচালান চক্রের তথ্য

সোনার চালানটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার নির্দেশে বা কার জন্য এটি বহন করা হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি কোনো চক্র জড়িত কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করা সোনার উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে বুধবার জব্দ করা মালিকহীন সোনার চালানের সঙ্গে শনিবারের চালানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হতে পারে।

দুদিনের ব্যবধানে দুটি বড় চালান জব্দের ঘটনায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সোনা চোরাচালানের নতুন কোনো রুট বা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না—সেটিও এখন নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

SEO কীওয়ার্ড: শাহজালাল বিমানবন্দরে সোনা জব্দ, ১৪ কেজি সোনা উদ্ধার, সোনার বার, ঢাকা কাস্টমস হাউজ, সোনা চোরাচালান, বিমানবন্দরে সোনা

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!