খুলনার দৌলতপুরে দিনদুপুরে জলিল মুন্সি (৪৫) নামে এক জুট প্রেস শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাবলা কুলিবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় হামলাকারী দলের অন্যতম সদস্য রাসেল ওরফে পিচ্চি রাসেলকে একটি পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ।
নিহত জলিল মুন্সি দৌলতপুরের কুলিবাগান এলাকার দিলু মুন্সির ছেলে। তিনি স্থানীয় ইস্পাহানি জুট প্রেসে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মোটরসাইকেলে এসে পথরোধ, পরপর দুই গুলি
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার সকালে জলিল মুন্সি কুলিবাগান এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে তিনজনের একটি দল সেখানে আসে। তারা জলিলের পথরোধ করে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি চালায়।
গুলির একটি তার বুকে এবং অপরটি পিঠে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে জলিল মুন্সি সড়কের ওপর লুটিয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় জলিলকে উদ্ধার করেন।
পরে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জলিল মুন্সিকে মৃত ঘোষণা করেন।

পিস্তলসহ আটক একজন
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই দৌলতপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় পুলিশ হামলাকারী দলের অন্যতম সদস্য রাসেল ওরফে পিচ্চি রাসেলকে একটি পিস্তলসহ আটক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক রাসেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি মাত্র ১৫ দিন আগে একটি মামলায় আদালত থেকে জামিনে কারাগার থেকে বের হয়েছেন।
তবে জলিল মুন্সিকে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদের আটকে অভিযান
দৌলতপুর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আটক রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন তথ্যও সংগ্রহ করছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে
হত্যাকাণ্ডের পর জলিল মুন্সির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে প্রকাশ্য সড়কে দিনদুপুরে একজন শ্রমিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কী কারণে জলিল মুন্সিকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হলো এবং এর পেছনে কারা রয়েছে—তা উদঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকে দৌলতপুর থানা-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

