বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ১২ শতক জমি জবরদখল করে বহুতল পাকাবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিকানা দাবি করা ইব্রাহীম হোসেন গংয়ের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের জাতহলিদা মৌজায়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে গাবতলী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
১২ শতক জমি নিয়ে বিরোধ
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দী উপজেলার বাশবাড়ী নারচী গ্রামের ইজার আলীর ছেলে ইব্রাহীম হোসেনসহ অন্যদের দাবি, জাতহলিদা মৌজায় তাদের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১২ শতক জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর জাতহলিদা গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে এরশাদ হোসেন অবৈধভাবে মালিকানা দাবি করে বহুতল পাকাবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
অভিযোগে বলা হয়, জমিতে নির্মাণকাজ শুরু হলে ইব্রাহীম হোসেন গং সেখানে গিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় ইব্রাহীম হোসেন বাদী হয়ে এরশাদ হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত করে গাবতলী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
পুলিশের ঘটনাস্থল পরিদর্শন
অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি ও নির্মাণকাজের বিষয়টি পরিদর্শন করে। এ সময় জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির বিষয়টি সামনে আসে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী গাবতলী মডেল থানার এসআই ফিরোজ আহমেদ জানান, অভিযুক্ত এরশাদ হোসেন জোয়ারদারদের কাছ থেকে ১২ শতক জমি ক্রয় করে খাজনা-খারিজ করেছেন। তবে জমিটির বণ্টননামা করা হয়নি।
পুলিশের ওই বক্তব্য অনুযায়ী, বণ্টননামা না থাকায় বাদীপক্ষ ইব্রাহীম হোসেনসহ অন্যরা ওই ১২ শতক জমিতে নিজেদের অংশীদারত্ব ও মালিকানা দাবি করছেন।
মালিকানা নিয়ে জটিলতা
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, জমিটি নিয়ে মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হলো মালিকানা ও বণ্টনের বিষয়। এক পক্ষ পৈতৃক সূত্রে জমিটির মালিকানা দাবি করছে, অন্যদিকে অপর পক্ষ জমি ক্রয় করে খাজনা-খারিজ করার কথা বলছে।
ফলে জমির প্রকৃত মালিকানা, অংশীদারদের অধিকার এবং নির্মাণকাজ বৈধ কি না—এসব বিষয় কাগজপত্র যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
অভিযোগকারী ইব্রাহীম হোসেন গংয়ের দাবি, জমিতে নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তারা নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এরশাদ হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে প্রাণনাশের হুমকি কিংবা জমি জবরদখলের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।
নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে বহুতল পাকাবাড়ি নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র ও উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।

