ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

পাঁচবিবিতে সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান, ৬৫৬ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার; স্ত্রী আটক

মোঃ বাবুল হোসেন, জয়পুরহাট জেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

পাঁচবিবিতে সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান, ৬৫৬ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার; স্ত্রী আটক

ছবিঃ সংগৃহীত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম উচনা গ্রামে সাংবাদিক মো. শাহীন আলমের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় শাহীন আলমের স্ত্রী মোছা. উম্মে হাবিবাকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযানকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে শাহীন আলম পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম উচনা গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

যা যা উদ্ধার হয়েছে

জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নেতৃত্বে টাস্কফোর্সের সদস্যরা স্থানীয় মেম্বার, ইমাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শাহীন আলমের বসতঘরে তল্লাশি চালান।

তল্লাশির সময় ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ৩৩ হাজার ৭৯৭ টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা পাঁচটি মোবাইল ফোনের মধ্যে একটি সচল এবং চারটি অচল ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বিজিবির হিসাবে উদ্ধার করা আলামতের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭ টাকা।

অভিযানকালে পালিয়ে যান শাহীন আলম

বিজিবি জানায়, অভিযান পরিচালনার সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির মালিক মো. শাহীন আলম (৩৮) পালিয়ে যান। তিনি পশ্চিম উচনা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

বিজিবির দাবি, শাহীন আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো, চাঁদা আদায় এবং ছোট ছোট গ্যাং গঠন করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভারতে পাচারের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে টাস্কফোর্স।

মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর মাদক মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন, পলাশ মিয়া এবং স্থানীয় মেম্বার লাইজু মিয়ার অভিযোগের সূত্রেও শাহীন আলমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহীন আলমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

মামলার প্রস্তুতি

এ ঘটনায় পলাতক শাহীন আলমকে প্রধান আসামি এবং তার স্ত্রী মোছা. উম্মে হাবিবাকে সহযোগী আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

আটক উম্মে হাবিবা এবং উদ্ধার করা আলামত পাঁচবিবি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদক, টাকা, মোবাইল ফোন ও অস্ত্রের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে পলাতক শাহীন আলমকে আটক এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে আরও তথ্য

অভিযানে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। এসব ডিভাইস ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মাদক সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা তদন্তে জানা যাবে।

এদিকে স্থানীয়ভাবে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে শাহীন আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকার কথা বলা হলেও এসব অভিযোগের আইনগত সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পলাতক শাহীন আলমকে আটকের পাশাপাশি উদ্ধার করা আলামতের উৎস ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!