ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ওপারে ১,৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র, এপারে সৌরশক্তিতে জ্বলছে চরবাসীর ঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১২:১১ পিএম

ওপারে ১,৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র, এপারে সৌরশক্তিতে জ্বলছে চরবাসীর ঘর

ছবিঃ সংগৃহীত

নদীর ওপারেই দেশের অন্যতম বড় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সেই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একেবারে পাশের জনপদেই নেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের নিশ্চয়তা। সন্ধ্যা নামলেই অনেক ঘরে জ্বলে ওঠে সৌর প্যানেলের আলো।

বাগেরহাটের রামপাল ও চালনার সীমান্তবর্তী পশুর নদের পাড়ের কৈগরদাসকাঠি চর যেন বিদ্যুতের এই বৈপরীত্যের প্রতিচ্ছবি। একদিকে বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, অন্যদিকে সেই কেন্দ্রের খুব কাছেই বসবাসকারী মানুষের ঘরে বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা। জীবিকা, বিদ্যুৎ সংযোগ, নদীতে মাছের সংকট ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে চরবাসীর জীবনযাত্রায় তৈরি হয়েছে নানা সংকট।

এমন বাস্তবতায় সৌরশক্তিই এখন অনেক পরিবারের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। কারও ঘরে রাতের আলো জ্বালাচ্ছে সোলার প্যানেল, আবার সৌরশক্তি ব্যবহার করে কেউ করছেন কৃষিকাজ, কেউ হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন, আবার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্যও তৈরি হয়েছে সৌরচালিত শিক্ষাকেন্দ্র।

চরবাসীর প্রশ্নও তাই সরল—যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়, সেই কেন্দ্রের এত কাছে থেকেও তাদের ঘর কেন অন্ধকারে থাকবে?

বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে থেকেও সোলারের ওপর নির্ভরতা

রামপালের গৌরম্ভা ইউনিয়নের আওতাধীন কৈগরদাসকাঠি চরে প্রায় ৮০০ জেলে পরিবারের বসবাস। তাদের অনেকের জীবিকা নদী ও সাগরনির্ভর। বিদ্যুৎকেন্দ্রের একেবারে কাছে বসবাস করেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা না পাওয়ায় অনেক পরিবার সৌর প্যানেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

চরের জেলে আল আমিন ফকির বলেন, নদীর ওপারেই তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। সারা দেশে সেই কেন্দ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। অথচ নদীর এপারে তাদের অন্ধকারে থাকতে হয়। রাতে আলো জ্বালাতে সোলার প্যানেল ব্যবহার করতে হচ্ছে।

তবে বিদ্যুতের সংকটের পাশাপাশি তার অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পর নদীতে মাছের পরিমাণও কমেছে।

আল আমিনের ভাষ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে তারা নদীতে আগের মতো মাছ পাচ্ছেন না। এর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হওয়ায় জেলেদের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় না জেনে নদীতে গিয়ে মারধরের অভিযোগ

জেলে আল আমিন ফকির জানান, কয়েক বছর আগে নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে যথাযথভাবে জানতে না পেরে তিনি নদীতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, তখন প্রশাসনের হাতে মারধরের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, বর্তমানে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় মাইকিং করে জানানো হয়। কিন্তু ছয়-সাত বছর আগে এভাবে মাইকিং করা হতো না। ফলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি না জেনে নদীতে গিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে তিনি প্রশাসনের হাতে মারধরের শিকার হন। এরপর থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং আগের মতো কাজ করতে পারেন না বলে জানান তিনি।

নদীতে সারাদিন জাল, তবু মাছ নেই

চরের বাসিন্দা তানিয়া বেগমের জীবনেও নদী ও মাছ ধরার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তার ভাষ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আগে তার স্বামী সাগরে গেলে তিনি নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাতেন।

তানিয়া বেগম বলেন, আগে নদীতে জাল ফেললে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত, এখন তা পাওয়া যায় না। সারাদিন জাল টেনেও অনেক সময় তেমন মাছ মেলে না। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

তার মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্র এত কাছে থাকার পরও জেলেদের সোলার প্যানেল কিনে ঘরে আলো জ্বালাতে হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে সোলার প্যানেলই এখন তাদের জন্য বড় সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর আছে, বিদ্যুৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

চম্পা বেগম জানান, সরকার তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। পাকা টয়লেটসহ বিভিন্ন সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে তাদের সমস্যা রয়েছে।

তার ভাষ্য, অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তারা সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ঘরে আলো জ্বালান। পাশাপাশি সেপটিক ট্যাংক বালুতে ভরে যাওয়ার কারণে বৃষ্টির সময় পানির চাপ বাড়লে ময়লা ঘরে উঠে আসার সমস্যাও রয়েছে।

চরবাসীর আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই ঘরের চালেও জমে। বৃষ্টির সময় পানি পড়লে সেই ছাই ধুয়ে যায়। ফলে পরিবেশ ও বসতবাড়ির ওপরও এর প্রভাব পড়ছে বলে তাদের দাবি।

কয়েক হাজার টাকার সংযোগ খরচও বড় বাধা

স্থানীয়দের ভাষ্য, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও সরবরাহ সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। আবার নতুন করে আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হয়।

দরিদ্র পরিবারের অনেকের পক্ষেই একসঙ্গে এই টাকা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে কেউ কেউ এনজিও বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পাওয়া সোলার প্যানেল দিয়ে ঘরের বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।

রাবেয়া বেগম বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বললেও টাকা লাগবে জানানো হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় আর সংযোগ নেওয়া হয়নি। পরে একটি এনজিও থেকে ৫০ ওয়াটের সোলার প্যানেল পাওয়ার পর সেটি দিয়েই রাতে ঘরে আলো জ্বালাচ্ছেন।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যান আব্দুল আহাদ জানান, আবাসিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে প্রতি কিলোওয়াটের জন্য ৪৬৫ টাকা হিসেবে জামানত দিতে হয়। একটি বাড়িতে লাইন টানা ও মিটারসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

জলাবদ্ধ এলাকায় সোলারই সহজ সমাধান

গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও রামপাল পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান জানান, রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের পেছনের বসতিগুলোতে জলাবদ্ধতার প্রবণতা বেশি। এ কারণে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তার ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে এনজিওর সহায়তা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থানীয়রা সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে সৌরশক্তি তাদের জন্য কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠেছে।

শুধু আলো নয়, আয়-রোজগারেও সৌরশক্তি

কৈগরদাসকাঠি ও আশপাশের এলাকায় সৌরশক্তির ব্যবহার শুধু ঘরে আলো জ্বালানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডেও এর ব্যবহার বাড়ছে।

আইআরভির নির্বাহী পরিচালক মেরিনা যুথী জানান, সৌরশক্তিচালিত ইনকিউবেটরের মাধ্যমে স্থানীয় নারীরা মুরগির ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রি করছেন। এতে বাড়িতে থেকেই আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট সদর ও রামপাল উপজেলায় নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দুটি উপজেলায় আটটি সৌরচালিত ইনকিউবেটর দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নারীদের সংগঠিত করে সাতটি সৌরচালিত পানির পাম্প দেওয়া হয়েছে। এসব পাম্পের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচের ব্যবস্থা করছেন নারীরা। ফলে একদিকে কৃষি উৎপাদন চালু রাখা যাচ্ছে, অন্যদিকে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ বাড়ছে।

সৌর আলোয় ‘গ্রিন বিদ্যাপীঠ’

সৌরশক্তির ব্যবহার পৌঁছে গেছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। চাপাতলা গুচ্ছগ্রামের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত ‘গ্রিন বিদ্যাপীঠ’।

মেরিনা যুথী বলেন, বিদ্যুতের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তার মতে, সৌরশক্তির মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সবুজ অর্থনীতির বিকাশ ঘটানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, সৌরশক্তিভিত্তিক উদ্যোগ নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে। এ ক্ষেত্রে নারীদের শুধু সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া জরুরি।

‘নদীতে গরম পানি ছাড়া হয় না’

চরবাসীর অভিযোগের অন্যতম বিষয় হলো বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গরম পানি নদীতে ফেলার কারণে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার দাবি। তবে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের পরিচালক আনোয়ারুল আজিম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের গরম পানি নদীতে ছাড়া হয় না। গরম পানি চৌবাচ্চায় সংরক্ষণ করা হয়। ঠান্ডা হওয়ার পর তা আবার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হয়।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটি ভারত সরকারের রেয়াতি অর্থায়নের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কেন্দ্রটিতে সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্লু গ্যাস নির্গমনের জন্য ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি রয়েছে। কয়লা ব্যবস্থাপনার জন্য অগ্রিম জাহাজ আনলোডার, ঘেরা স্টক ইয়ার্ড এবং কম ছাই ও সালফারযুক্ত উচ্চ গ্রেডের কয়লা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ আর স্থানীয় মানুষের অন্ধকার—বৈপরীত্য কোথায়?

রামপালের এই চরাঞ্চলের বাস্তবতা একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই বসবাসকারী মানুষ যদি ঘরের আলো জ্বালাতে সৌর প্যানেলের ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে জাতীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও স্থানীয় বিদ্যুৎপ্রাপ্তির মধ্যে থাকা ব্যবধানটি নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যায়—এটি একটি জাতীয় অবকাঠামোগত প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই উৎপাদন কেন্দ্রের আশপাশের প্রত্যন্ত বসতিতে নির্ভরযোগ্য সংযোগ নিশ্চিত করা আলাদা একটি সেবা অবকাঠামোর বিষয়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যন্ত মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে চর ও জলাবদ্ধ এলাকায় প্রচলিত বিদ্যুৎ অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌরভিত্তিক ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কমিউনিটি সোলার, সৌরচালিত সেচ, পানির পাম্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাভিত্তিক প্রকল্প সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

তালোড়া বা অন্য কোনো অঞ্চলের মতো রামপালের এই বাস্তবতাও দেখিয়ে দেয়, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়—বিদ্যুৎপ্রাপ্তির ন্যায্যতা ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সৌরশক্তিই কি চরবাসীর ভবিষ্যতের আলো?

কৈগরদাসকাঠির মানুষের কাছে সৌর প্যানেল এখন কেবল বিকল্প বিদ্যুতের উৎস নয়। এটি অনেক পরিবারের রাতের আলো, নারীর আয়ের সুযোগ, কৃষির সেচ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং প্রত্যন্ত এলাকায় জীবনযাত্রা সচল রাখার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে চরবাসী নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সুবিধা চান। একই সঙ্গে নদীতে মাছের সংকট, জীবিকার অনিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞার সময় সহায়তা এবং পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয়গুলোও সমাধানের দাবি তাদের।

একদিকে নদীর ওপারে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে, অন্যদিকে নদীর এপারে কোনো কোনো ঘরে রাত নামলেই জ্বলে সৌর প্যানেলের আলো। এই বৈপরীত্য হয়তো শুধু রামপালের একটি চরাঞ্চলের গল্প নয়; বরং দেশের প্রত্যন্ত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছানোর প্রশ্নটিও সামনে আনে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!