মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে ২২০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় সার পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা সারের পরিমাণ ১১ হাজার কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন দবিরখাল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে দবিরখাল এলাকায় একটি ট্রাক থেকে ইউরিয়ার বস্তা ফিশিং বোটে স্থানান্তরের সময় কোস্টগার্ড সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান। এ সময় মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা ২২০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
একই অভিযানে সার পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা ইউরিয়া সারের পরিমাণ ১১ হাজার কেজি এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ট্রাক থেকে ফিশিং বোটে নেওয়ার সময় জব্দ
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পাচারকারীরা সড়কপথে ট্রাকে করে ইউরিয়া সার নিয়ে দবিরখাল এলাকায় আসে। এরপর সেখান থেকে ফিশিং বোটে করে সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় কোস্টগার্ডের অভিযানে পুরো চালানটি ধরা পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাটি তদন্ত করে পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সার পাচারে দেশে সংকটের আশঙ্কা
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভর্তুকিযুক্ত সার অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার হলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে কোনো কোনো এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বাড়তি দামে সার কিনতে হতে পারে।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে সরকারি ভর্তুকিতে সরবরাহ করা সার পাচার বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চার ধরনের সারে সরকারি ভর্তুকি
চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, সরকার ইউরিয়া, ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট)সহ চার ধরনের সারে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকার এই ভর্তুকি দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, সরকারি ভর্তুকির সার পাচার হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক ও কার্যকর নজরদারি করতে হবে।
পাচার ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের দাবি
কৃষি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তবর্তী ও নৌপথ ব্যবহার করে ভর্তুকিযুক্ত সার দেশের বাইরে পাচার হলে একদিকে যেমন সরকারের ভর্তুকির অর্থের অপচয় হয়, অন্যদিকে কৃষকরা প্রয়োজনীয় সময়ে সার না পাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন।
বিশেষ করে ফিশিং বোটসহ নৌযান ব্যবহার করে উপকূলীয় এলাকা থেকে সার পাচারের চেষ্টা ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।
কোস্টগার্ডের অভিযানে বড় একটি চালান জব্দ হওয়ায় সার পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

