ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শ্বেতপত্রের আদলেই ব্যবস্থা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শ্বেতপত্রের আদলেই ব্যবস্থা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশিত শ্বেতপত্রে উঠে আসা তথ্য ও অনিয়মের ধরন বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকারও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতি দূর করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান তৃতীয় অধিবেশনের দিনের কর্মসূচিতে দেওয়া সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শ্বেতপত্রের আদলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, তার আদলেই বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারপ্রধানের বক্তব্যে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার প্রবণতা সরকারের নজরে এসেছে।

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে তদারকি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি প্রবণতা বর্তমান সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে প্রকল্প গ্রহণের আগে সমীক্ষা ও যাচাই কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং প্রকল্পের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তার মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব হলে যেমন জনগণের ভোগান্তি বাড়ে, তেমনি সরকারি অর্থের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। তাই প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১৫০ গ্যাসকূপ

ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন করা হবে। দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া কুতুবজোনে নতুন একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান সরকারপ্রধান। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জ্বালানি ব্যবস্থায় ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ডিজেল পাম্পের বদলে সৌরবিদ্যুৎ

কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় জ্বালানি ব্যয় কমাতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজেলচালিত পাম্পগুলোকে ধীরে ধীরে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডিজেলচালিত পাম্পের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচ ব্যবস্থায় ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষকদের জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র

ভোলার প্রাকৃতিক ও গ্যাস সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জেলার সার্বিক উন্নয়ন করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভোলার প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে গ্যাস সম্পদ ব্যবহার করে জেলার উন্নয়ন করা হবে। সেখানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

ভোলার গ্যাস সম্পদকে স্থানীয়ভাবে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে বলে তার বক্তব্যে উঠে আসে।

সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা

দেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের অবদান আরও বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, সমুদ্রসম্পদ, উপকূলীয় অর্থনীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পাঁচ বছর মেয়াদি সামগ্রিক মেরিন প্লানিং জোন তৈরি করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে মৎস্য, নৌপরিবহন, বন্দর, সামুদ্রিক পর্যটন, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনায় এসব সম্ভাবনাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দুর্নীতি দমন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নজর

প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় বক্তব্যে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে, অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মূল বিষয়গুলো
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রের আদলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে সমীক্ষা ও যাচাই জোরদার।
প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি।
২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা।
কুতুবজোনে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়ন।
২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা।
পাঁচ বছরের মধ্যে ডিজেলচালিত পাম্পকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ।
ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন।
সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের অর্থনৈতিক ব্যবহার বাড়াতে পাঁচ বছর মেয়াদি মেরিন প্লানিং জোন তৈরি।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!