ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

‘অনেক মূল্য দিয়ে ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছি’, জুলাই জাদুঘরে আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

‘অনেক মূল্য দিয়ে ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছি’, জুলাই জাদুঘরে আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি

ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে আবেগাপ্লুত হয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি; কিন্তু এর জন্য মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র কখনোই তাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না।

দেশে যেন আর কোনো দিন এমন মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি না ঘটে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি ও তার সহধর্মিণীর জাদুঘর পরিদর্শন

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পৌঁছান।

জাদুঘরে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রাষ্ট্রপতি টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। পরে তিনি ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে ঘুরে দেখেন। এ সময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ও স্মৃতি তুলে ধরা বিভিন্ন উপকরণ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি

জাদুঘর পরিদর্শনের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতি ১৬ বছরের শাসনকালে শহীদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল, রেপ্লিকা আয়নাঘর, বিডিআর ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বর, নির্যাতন সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখেন।

বিশেষ করে শহীদদের লেখা চিঠি ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন পর্যবেক্ষণের সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এসব দলিল ও স্মৃতিচিহ্নের মাধ্যমে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা এবং ভুক্তভোগী ও শহীদদের স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

‘শহীদ ও আহতদের ঋণ শোধ করতে পারবে না রাষ্ট্র’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি এবং গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার পেছনে অনেক বড় মূল্য দিতে হয়েছে। যারা জীবন দিয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে গভীরভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র কখনোই জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে যেন কোনো ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বৃক্ষরোপণ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন

জাদুঘর পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। পরে তিনি মনসুন থিয়েটারে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখেন।

প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

পরিদর্শনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রদর্শিত দলিলপত্র, স্মৃতিচিহ্ন ও অন্যান্য উপকরণ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেন গবেষণা দলের সদস্যরা।

‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ’

পরিদর্শন শেষে স্মৃতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের এসব স্মৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম অতীতের ঘটনা, আত্মত্যাগ ও গণতন্ত্রের জন্য মানুষের সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারবে।

অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন

অনুষ্ঠানে জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, আবরার ইলিয়াস এবং মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি একদিকে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ সময়ের ইতিহাস সংরক্ষণ ও তুলে ধরার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!