ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

নয়াদিল্লিতে আজ শুরু ব্রিকস সম্মেলন, নজর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

নয়াদিল্লিতে আজ শুরু ব্রিকস সম্মেলন, নজর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে

ছবিঃ সংগৃহীত

উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসের বহুল প্রতীক্ষিত ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করেছে দেশটির প্রশাসন।

বৈশ্বিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এবারের ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে এর গুরুত্বও বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ও এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে সদস্য দেশগুলোর আলোচনায় নিরাপত্তা ও জ্বালানি ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে।

বিশ্বনেতাদের নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা

ব্রিকস সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও ভিভিআইপি রুটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্বনেতাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সম্মেলনস্থলের আশপাশে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

এ ছাড়া বিশ্বনেতাদের মোটরকেডের গতিবিধি এবং রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উচ্চপ্রযুক্তির ডেডিকেটেড কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নয়াদিল্লিতে পুতিন, আসছেন শি ও পেজেশকিয়ান

সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর সফরকে ঘিরে ভারতের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরাও সরাসরি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের একই সময়ে নয়াদিল্লিতে উপস্থিতি সম্মেলনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনায় জোর

এবারের সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় উদীয়মান অর্থনীতির প্রভাব বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো বিশ্বের বড় অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশের প্রতিনিধিত্ব করায় জোটটির অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটেও নজর

এবারের ব্রিকস সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত। অঞ্চলটির সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয়, পণ্যমূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে।

এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্রিকস কীভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে এবং বৈশ্বিক সংকটে জোটের ভূমিকা কী হবে—সেদিকেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় এবারের সম্মেলনে জ্বালানি নিরাপত্তাও গুরুত্ব পেতে পারে।

বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ, মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাড়ছে ব্রিকসের প্রভাব

প্রথম দিকে মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে ব্রিকসের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বও বেড়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে উদীয়মান শক্তিগুলোর ভূমিকা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও জোটটির প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

বৈশ্বিক বাণিজ্য, আর্থিক ব্যবস্থা, উন্নয়ন সহযোগিতা, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বিভিন্ন বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকট নিয়ে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান কতটা সমন্বিত হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এবারের ব্রিকস সম্মেলন

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পরিবর্তনশীল বাস্তবতার মধ্যে নয়াদিল্লিতে বসছে এবারের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ফলে এটি শুধু সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

বিশ্বের বড় উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর নেতারা একই টেবিলে বসায় সম্মেলন থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য সমন্বিত অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

নয়াদিল্লির এই শীর্ষ সম্মেলন তাই ব্রিকসের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে জোটটির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!