ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ইরানে চলতি বছর অন্তত ২০ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১০:১৩ এএম

ইরানে চলতি বছর অন্তত ২০ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি অন্তত ২০ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে। এসব মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন (আইএইচআরও)।

শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের প্রতি মাসেই ইরানে অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। একই সময়ে গড়ে প্রতি মাসে অন্তত তিনজন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কোন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড

আইএইচআরওর তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাগুলোর বড় একটি অংশ মাদকসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগেও আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের মামলার নথি ও আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারকেও মামলা ও তাদের স্বজনদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

যেসব কারাগারে কার্যকর হয়েছে মৃত্যুদণ্ড

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান নাগরিকদের অধিকাংশ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ইরানের বিভিন্ন কারাগারে। এর মধ্যে সিরাজের আবেলাবাদ কারাগার, তায়বাদ কারাগার, ইয়াজদ কারাগার এবং ইস্ফাহানের দাস্তগার্ড কারাগারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব মৃত্যুদণ্ডের বেশিরভাগের বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে বিস্তারিত ঘোষণা দেয়নি। ফলে চলতি বছরে ঠিক কতজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা কঠিন বলে জানিয়েছে আইএইচআরও।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগেও কয়েকজন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুল মোহাম্মদ ও কাইম হোসেনি নামে দুই আফগান নাগরিককে ইস্ফাহানের আলিখানি স্কয়ারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওই এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আফসার শাহ-আহমাদি, সাফাই ও সদরুদ্দিন আহমেদাজাদ নামে আরও তিন আফগান নাগরিককে গত জুলাইয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে একটি থানা পুড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

২০২৫ সালে ৮৫ আফগানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানে আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নতুন নয়। আইএইচআরওর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৮৫ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

সংস্থাটির দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আফগান নাগরিকরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। বিদেশি নাগরিক হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তারা পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলেও মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি থাকার অভিযোগই মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইএইচআরও বলেছে, মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তির ক্ষেত্রে আসামির ন্যায্য বিচার, আইনজীবীর পর্যাপ্ত সুযোগ এবং পরিবারের কাছে তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে যেসব মামলায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, গুপ্তচরবৃত্তি কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে, সেসব মামলার তথ্য জনসমক্ষে সীমিত থাকায় স্বাধীনভাবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে উদ্বেগ

ইরানে বিপুলসংখ্যক আফগান অভিবাসী ও শরণার্থী বসবাস করেন। বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদক, অবৈধ প্রবেশ, অপরাধ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আইএইচআরওর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২০ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য প্রকাশের পর ইরানে বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার প্রয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবারও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: খামা প্রেস

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!