ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৭ নেতার মামলার রায় মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৭ নেতার মামলার রায় মঙ্গলবার

ছবিঃ সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ রাষ্ট্রপক্ষের অন্যান্য আইনজীবী।

মামলার সাত আসামি

মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের অপেক্ষা

মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। এরপর মামলার বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

গত ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর প্রায় এক মাসের মধ্যে রায়ের দিন ঘোষণা করা হলো।

এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তার আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।

যে অভিযোগে বিচার

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানোর আহ্বান এবং বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতা দমনের নামে পরিকল্পনা করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না; বরং আন্দোলন দমনে সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের মতে, এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।

রায় ঘিরে অপেক্ষা

সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর এখন বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তি পর্যালোচনা করে রায় ঘোষণা করবেন।

তবে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়নি। রায়ের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!