ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরাতে ভারতের কাছে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ১১:১৭ এএম

আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরাতে ভারতের কাছে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন

ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ (Extradition) চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে। এতে আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় ও মৃত্যুদণ্ডের আদেশের অনুলিপিও ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রেক্ষাপট

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে অভিযুক্তদের দায় রয়েছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ, নথি পর্যালোচনা ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেন, তারা ‍‍`সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি‍‍` (Superior Command Responsibility) নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী। অর্থাৎ, দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় পদে থেকে অধীনস্থ বাহিনীর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়া এবং সেসব কর্মকাণ্ডের দায় এড়ানোর সুযোগ তাদের নেই।

একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। ওই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রাষ্ট্রীয় অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়।

প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার আইনি গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি অন্য দেশে অবস্থান করলে তাকে ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি, পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। এখন বিষয়টি ভারত সরকারের আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার আওতায় বিবেচিত হবে।

এর আগে বাংলাদেশ সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্যও ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছিল। সেই আবেদন পর্যালোচনার বিষয়টি ভারত সরকার পরীক্ষা করে দেখছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল।

আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ আবেদনও দুই দেশের বিদ্যমান আইনি ও কূটনৈতিক কাঠামোর আলোকে নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

banner
Link copied!