বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ অর্থায়নে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ নিয়ে এসেছে কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি (YES) প্রোগ্রাম। স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীরা আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
ইয়েস প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্বাচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাইস্কুলে এক সেমিস্টার পড়াশোনার পাশাপাশি একটি আমেরিকান পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ পাবেন। এর ফলে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা, সমাজ, সংস্কৃতি, পারিবারিক জীবন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পাবেন।
কী সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা?
ইয়েস প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টারের জন্য হাইস্কুলে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁদের একটি আমেরিকান হোস্ট পরিবারের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
ফলে শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে বসবাস ও যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং যোগাযোগ দক্ষতা আরও বিকশিত হবে।
এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের শুধু বিদেশে পড়াশোনার সুযোগই দেবে না, বরং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, শিক্ষা ও পেশাজীবনে কাজে লাগতে পারে—এমন বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পথও তৈরি করবে।
নেতৃত্ব বিকাশেও গুরুত্ব
ইয়েস প্রোগ্রামের সুযোগ একাডেমিক পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
উদ্ভাবন, ব্যবসা, শাসনব্যবস্থা এবং নাগরিক সম্পৃক্ততাসহ আধুনিক বিভিন্ন বিষয়ে কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁদের নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তাভাবনা প্রকাশ, দলগতভাবে কাজ করা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।
সাংস্কৃতিক বিনিময় ইয়েস প্রোগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য
মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে তরুণ নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা ইয়েস প্রোগ্রামের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করাও এ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও বসবাসের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার পরিবেশ তৈরি করা হয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি দেশের বাইরে গিয়ে নতুন সংস্কৃতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দেশ ও সংস্কৃতিকে অন্যদের সামনে তুলে ধরার একটি সুযোগ।
কয়েক ধাপে হবে নির্বাচন
ইয়েস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া মেধাভিত্তিক এবং কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশে আবেদনপ্রক্রিয়া পরিচালনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও সম্পদ নেটওয়ার্ক (আইইআরএন) সহায়তা করছে।
আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীদের বাছাই করা হবে।
তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ও যোগ্যতার শর্তগুলো ভালোভাবে পড়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০০৪ সালে শুরু, সুযোগ পেয়েছেন ৫৩০ বাংলাদেশি
কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি বা ইয়েস প্রোগ্রাম ২০০৪ সালে চালু হয়। এর পর থেকে বাংলাদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন।
মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে প্রোগ্রামটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫৩০ জন শিক্ষার্থী এ শিক্ষাবিনিময় কর্মসূচির সুযোগ পেয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি দেশে ফিরে তাঁদের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
আবেদনের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর
স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের জন্য আবেদন গ্রহণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন সংস্কৃতি, শিক্ষা ও জীবনধারা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক তরুণ নেতৃত্বের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথও তৈরি হবে।

