ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা, বাজারজাতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা, বাজারজাতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত ভেন্টিলেটর এবং হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি সম্ভাবনাময় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত ব্যবহারোপযোগী করে তুলতে এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই দুটি চিকিৎসা সরঞ্জামের অগ্রগতি, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে চিকিৎসা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্থানীয় উৎপাদনের বিকল্প নেই। তিনি সংশ্লিষ্ট গবেষক, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের মেধা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করা সম্ভব হলে তা শুধু দেশের স্বাস্থ্যসেবাই উন্নত করবে না, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি রপ্তানির নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি করবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন উদ্ভাবিত চিকিৎসা সরঞ্জামগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান নিয়ন্ত্রণ, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের সব প্রক্রিয়ায় সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

দুটি পৃথক গবেষক দলের উদ্ভাবন

সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, ভেন্টিলেটর এবং হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন দুটি পৃথক বিশেষজ্ঞ দলের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফল। বর্তমানে যন্ত্র দুটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মূল্যায়ন চলছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হওয়ার পর এগুলো দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় এই যন্ত্রগুলোর দাম বিদেশ থেকে আমদানি করা একই ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জামের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে। ফলে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং রোগীরাও তুলনামূলক কম খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

বিদেশি নির্ভরতা কমবে

সভায় বলা হয়, বর্তমানে উন্নতমানের ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের জন্য বাংলাদেশকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। দেশেই এসব যন্ত্র উৎপাদন শুরু হলে চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় কমবে এবং সংকটকালেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেন, সফলভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে।

ভেন্টিলেটরের কার্যকারিতা

সভায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, উদ্ভাবিত ভেন্টিলেটরটি গুরুতর শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসজনিত জটিলতা কিংবা নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের জীবন রক্ষায় ব্যবহার করা যাবে। যেহেতু এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল চিকিৎসা সরঞ্জাম, তাই আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হবে।

বিদ্যুৎ ছাড়াই চলবে হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন

হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে দুর্গম অঞ্চল, বিদ্যুৎবিহীন এলাকা, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম কিংবা অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহনের সময় এই যন্ত্র অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণ ও মাঝারি মাত্রার শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এই যন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং হাসপাতালের ওপর চাপও অনেকাংশে কমাবে।

স্বাস্থ্য খাতে গবেষণায় গুরুত্ব

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও গবেষকদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম আরও উৎসাহিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিকে শিল্প পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশের মেধাবী গবেষক ও প্রকৌশলীরা বিশ্বমানের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সক্ষমতা রাখেন। সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং স্বাস্থ্য খাতে দেশীয় উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।"

সভায় উপস্থিত ছিলেন

বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

banner
Link copied!