ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

menu

ছয় মাসে রাজধানীর ১২০ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল, যানজট কমাতে ডিএমপির নতুন পরিকল্পনা

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

ছয় মাসে রাজধানীর ১২০ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল, যানজট কমাতে ডিএমপির নতুন পরিকল্পনা

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দিকে এগোচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১২টি মোড়ে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে তা ৬০টিরও বেশি মোড়ে সম্প্রসারণের আশা করছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

একই সঙ্গে গত প্রায় এক বছরে রাজধানীর ৭৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক ডাইভারশন, ইউটার্ন ব্যবস্থা এবং প্রকৌশলগত পরিবর্তন এনে যানজট কমানোর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে ডিএমপি। ভবিষ্যতে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস), অ্যালগরিদমভিত্তিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্মার্ট করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।

সীমিত জনবলেই যানজট কমানোর চেষ্টা

আনিছুর রহমান জানান, বর্তমানে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জন সদস্য কর্মরত থাকলেও ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অসুস্থতার কারণে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ জন সদস্য রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন।

এর মধ্যে প্রায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ২৪ ঘণ্টা তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করতে হয়। বাকি অধিকাংশ পয়েন্টে দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করা হয়।

তিনি বলেন, সীমিত জনবল নিয়েই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন আনার লক্ষ্যে রাজধানীর ৭৫টি স্থানে সড়কের নকশা পরিবর্তন, ডাইভারশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রকৌশলগত সংশোধন করা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের নতুন যানজট সৃষ্টি হয়নি। বরং মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

আসাদ গেটে কমেছে যানজট, কমেছে ট্রাফিক সদস্যের প্রয়োজন

ডিএমপির ট্রাফিক প্রধান বলেন, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে আসাদ গেটের চার রাস্তার মোড়ে আগে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতো। পরে সেখানে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ করে বাম দিকে ঘুরে নির্দিষ্ট স্থানে ইউটার্ন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এর ফলে যানবাহনের চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে এবং ওই মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আগে যেখানে ৮ জন সদস্য প্রয়োজন হতো, এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।

একই ধরনের ডাইভারশন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিবর্তন বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর ও কালশী ফ্লাইওভারের নিচেও কার্যকর করা হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জোর

আনিছুর রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদে শুধুমাত্র ম্যানুয়াল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার দিকে যাচ্ছে ডিএমপি।

বর্তমানে চালু হওয়া সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও ভবিষ্যতে উন্নত দেশের মতো অ্যালগরিদমভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ে কত যানবাহন একটি মোড়ে প্রবেশ করছে, তার ভিত্তিতে সিগন্যালের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ হবে এবং আশপাশের মোড়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালিত হবে।

তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নত দেশের মতো পরিকল্পিতভাবে গড়ে না ওঠায় পুরোপুরি অটোমেটিক ব্যবস্থা চালু করতে সময় লাগবে।

নাগরিকদের সহযোগিতায় ইতিবাচক পরিবর্তন

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, গত দুই মাসে রাজধানীবাসী ট্রাফিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। সিগন্যাল মেনে চলা, লেন শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক সদস্যদের নির্দেশনা অনুসরণ করার ফলে অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার প্রবণতা কমেছে।

বৃষ্টি, অবরোধ ও সমন্বয়হীনতা বড় চ্যালেঞ্জ

তবে রাজধানীর যানজট সমস্যার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি ভারি বৃষ্টিপাত, সড়ক অবরোধ, মিছিল-মিটিং এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীন উন্নয়নকাজকে দায়ী করেন।

তার ভাষ্য, অনেক সময় রাতারাতি রাস্তা কেটে উন্নয়নকাজ শুরু হলেও ট্রাফিক বিভাগকে আগে থেকে জানানো হয় না। আবার দিনের বেলায় কাজ বন্ধ থাকায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়নকাজের সময় ট্রাফিক সিগন্যালের কেবল কেটে যাওয়ায় পুরো সিগন্যাল ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, যানজট নিরসনে শুধু ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ইউটিলিটি সেবা সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিক—সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় স্থায়ী উন্নতি আনা সম্ভব হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

banner
Link copied!