ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

কৃষিজমিতে আর শিল্প নয়, প্রজন্মভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মালিকানা চালুর চিন্তা: ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

কৃষিজমিতে আর শিল্প নয়, প্রজন্মভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মালিকানা চালুর চিন্তা: ভূমিমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, ভূমি সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, ডিজিটাল জরিপ, খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বরাদ্দ এবং কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিতে চায় সরকার।

ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার আদলে প্রজন্মভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জমির মালিকানা ব্যবস্থা চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ব্যবস্থায় একটি জমির বর্তমান মালিকের পাশাপাশি পূর্ববর্তী প্রজন্মের মালিকানা ইতিহাস এবং উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা পরিবর্তনের তথ্যও ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

ভূমি অফিসের সেবাকে আরও আধুনিক ও হয়রানিমুক্ত করার পাশাপাশি ডিজিটাল ভূমি জরিপ ও সমন্বিত ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী।

জাগো নিউজের সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে এসব পরিকল্পনা ও ভূমি খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাসুদ রানা।

নামজারি ব্যবস্থার ত্রুটি স্বীকার, সমাধানের আশ্বাস

বর্তমানে ভূমি সেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়া। এটি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশও ডিজিটাল নামজারি ব্যবস্থায় বিভিন্ন ত্রুটির কথা বলে আসছেন।

এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থাটি এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। জনগণের মধ্যেও এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এসব সমস্যা ধীরে ধীরে নিরসনের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভূমি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ত্রুটি চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভূমি রেজিস্ট্রি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চান মন্ত্রী

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে ভূমি রেজিস্ট্রেশন বিভাগ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক পৃথকত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন ভূমিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভূমি রেজিস্ট্রি বিভাগ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থাকায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি সতর্ক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

ভূমিমন্ত্রীর মতে, ভূমি রেজিস্ট্রি বিভাগকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা হলে ভূমি সংক্রান্ত সেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

দাদার আমলের জমি বিরোধ নাতিরাও টেনে নিয়ে যাচ্ছে

ভূমি সেবার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মামলা ও মালিকানা বিরোধকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভূমিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এমন অনেক জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, যার সূত্রপাত কয়েক প্রজন্ম আগে। দাদা যে বিরোধের সমাধান করতে পারেননি, তার সন্তান সেটি চালিয়ে যাচ্ছেন; পরবর্তী প্রজন্মও মামলা নিয়ে আদালতে যাচ্ছে। ফলে একটি জমির বিরোধ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত জনগণের দোরগোড়ায় সমাধানের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

তার ভাষায়, ভাই-বোনের মধ্যে জমি ভাগাভাগি, প্রতিবেশীদের জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ, উত্তরাধিকার এবং ভূমিদস্যুদের দখল—এসব কারণে অসংখ্য মানুষ দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে রয়েছেন।

১৯৪৭-এর দেশভাগের জটিলতাও সমাধানের উদ্যোগ

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পত্তি বিনিময় এবং মালিকানা পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া জটিলতার কথাও তুলে ধরেছেন ভূমিমন্ত্রী।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশভাগের সময় অনেক ভূমির মালিক ভারত চলে যান, আবার ভারত থেকে অনেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এসে সম্পত্তি গ্রহণ করেন। এ ধরনের সম্পত্তি একসময় ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে পরিচিত ছিল, যা পরবর্তী সময়ে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ হিসেবে পরিচিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে বর্তমানে যাদের দখল বা অবস্থানে সম্পত্তি রয়েছে, তাদের বৈধ মালিকানা দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মালয়েশিয়ার আদলে প্রজন্মভিত্তিক জমির মালিকানা ব্যবস্থা

ভূমি ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার মডেল অনুসরণের কথা বলেছেন ভূমিমন্ত্রী।

তিনি জানান, মালয়েশিয়ার ভূমি ব্যবস্থায় একটি জমির মালিকানা ইতিহাস প্রজন্ম ধরে সংরক্ষিত থাকে। ফলে বহু বছর আগে ওই জমির মালিক কে ছিলেন, কতটুকু জমি কার মালিকানায় ছিল—এসব তথ্যও জানা সম্ভব।

বাংলাদেশেও এমন একটি প্রজন্মভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জমির মালিকানা ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করা হচ্ছে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির তিন ছেলে ও দুই মেয়ে থাকলে উত্তরাধিকার অনুযায়ী সম্পত্তি তাদের মধ্যে ভাগ হবে। পরবর্তী প্রজন্মে উত্তরাধিকারীদের সংখ্যা বাড়লেও ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে মালিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে।

এর ফলে উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা নিয়ে বিরোধ, তথ্য গোপন এবং জালিয়াতির সুযোগ কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জমি কেনাবেচায় ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা

ভবিষ্যতের ভূমি ব্যবস্থায় জমি বিক্রি ও কেনাবেচার ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের আইনজীবী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করবেন। সবকিছু ঠিক থাকার পর অর্থ পরিশোধ ও মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হলে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, প্রতারণা ও মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

মালয়েশিয়ার ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটি কার্যকর মনে হলে জাতীয় সংসদে বিল এনে আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কৃষিজমিতে শিল্প স্থাপনে কঠোর অবস্থান

কৃষিজমি রক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী। তার মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর একটি হলো উর্বর কৃষিজমি। একই জমিতে বছরে দুই, তিন বা তারও বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এসব জমি ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তিন ফসলি ও দুই ফসলি কৃষিজমিতে উন্নয়নমূলক স্থাপনা বা বড় শিল্প প্রকল্প করার অনুমোদন দেওয়া হবে না।

ভূমিমন্ত্রীর বক্তব্য, “আমরা ভবিষ্যতে কী ইট-পাথরের চাষাবাদ করবো, না কি মাটির?”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই জমি রক্ষা করা প্রয়োজন।

১৫০ থেকে ৫০০ একর জমিতে বড় প্রকল্প নিরুৎসাহিত করা হবে

কৃষিজমিতে বড় শিল্প ও স্থাপনা গড়ে তোলার প্রবণতা বন্ধে ভূমি বরাদ্দের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৫০, ২০০ কিংবা ৫০০ একর কৃষিজমি নিয়ে বড় শিল্প বা প্রকল্প গড়ে তোলার প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করা হবে। এ ধরনের প্রকল্পে অনুমোদন না দেওয়ার নীতিতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে যে বরাদ্দসংক্রান্ত সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়, সেখানেও কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।

শিল্পের জন্য অকৃষি ও চরাঞ্চলের জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা

কৃষিজমিতে শিল্প স্থাপনের পরিবর্তে অকৃষি জমি, চরাঞ্চল এবং উপযুক্ত উপকূলীয় এলাকার জমি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। সমুদ্রের কাছাকাছিও বিভিন্ন এলাকায় জমি রয়েছে। উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব জমি শিল্প ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহার করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে এসব এলাকায় সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।

ডিজিটাল জরিপে কোরিয়ার অর্থায়ন

জমির মালিকানা নিয়ে জালিয়াতি, বিরোধ ও অনিয়ম কমাতে দেশব্যাপী ডিজিটাল ভূমি জরিপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

ভূমিমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল জরিপের বিষয়ে কাজ চলছে এবং পুরো উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়া অর্থায়ন করছে। দেশব্যাপী আধুনিক ও সমন্বিত ভূমি জরিপ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডিও চলছে।

অতীতে ভূমি জরিপের ক্ষেত্রে অনিয়ম, অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থায় এসব সমস্যা এড়াতে চায় সরকার।

লক্ষ্য হচ্ছে দেশব্যাপী ডিজিটালাইজড ভূমি জরিপের পাশাপাশি একটি সমন্বিত ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

খাস জমি দখলমুক্ত করে ভূমিহীনদের দেওয়ার উদ্যোগ

খাস জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দখলের অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেছেন ভূমিমন্ত্রী।

তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় খাস জমি প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে বরাদ্দ পাওয়া জমি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া জমি বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ভূমি ব্যবস্থাপনায় “জাল যার, জলা তার” নীতিতে চলার পরিকল্পনা রয়েছে—অর্থাৎ যে ব্যক্তি প্রকৃতভাবে জমি ব্যবহার ও চাষাবাদ করছেন, তার অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে পাঠানো হচ্ছে

সাবেক সরকারের সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভূমিমন্ত্রী জানান, গুরুতর অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথে না গিয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন তিনি।

তার বক্তব্য, গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিংবা জনমনে আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমনকারী সংস্থার মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

তদবিরের চাপও রয়েছে, বললেন ভূমিমন্ত্রী

ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা নিয়ে আসেন। এতে মন্ত্রীর নিয়মিত কাজ ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বঞ্চনা ও সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।

বিশেষ করে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিদের পরিবারকে বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

ভূমিমন্ত্রীর মতে, মানুষের অসহায়ত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের সমস্যা শুনতে হয়। তবে একই সঙ্গে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ন্যায়, নিয়ম ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ভূমি সেবার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা

ভূমিমন্ত্রীর বক্তব্যে ভূমি খাতে ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়েছে—ডিজিটাল ভূমি জরিপ, সমন্বিত ভূমি তথ্যভান্ডার, প্রজন্মভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মালিকানা, কৃষিজমি সংরক্ষণ, খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ এবং ভূমি রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করা।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ, নামজারি জটিলতা, মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভূমি অফিসকেন্দ্রিক হয়রানি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় তথ্যের নির্ভুলতা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত করা যায়—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ভূমিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে আইন ও নীতিগত পরিবর্তনের পথেই এগোতে চায় মন্ত্রণালয়।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!