ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

menu

শিশুস্বাস্থ্যে নতুন উদ্যোগ: পাঁচ বিভাগে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

শিশুস্বাস্থ্যে নতুন উদ্যোগ: পাঁচ বিভাগে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা

ছবিঃ সংগৃহীত

শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে দেশের পাঁচটি অঞ্চলে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে এসব হাসপাতাল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে হাসপাতালগুলো চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধন শেষে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের নতুন ভবন-২ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিশুদের চিকিৎসায় বাড়ছে বিশেষায়িত সেবার প্রয়োজন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো কিংবা চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়। উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি জানান, শিশুদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত সুবিধার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ঢাকাকেন্দ্রিক চিকিৎসানির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে শিশুদের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

৫০০ শয্যার নিউরোসায়েন্স ভবন উদ্বোধন

নতুন ভবন উদ্বোধনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন দেশের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সময়ের চাহিদা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বিবেচনায় হাসপাতালটি এখন আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সম্প্রসারিত হয়েছে।

হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, হেলথ টেকনিশিয়ান ও কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাড়ছে স্নায়ুরোগের চিকিৎসার চাহিদা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্নায়ুবিক জটিলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়েই বড় ধরনের স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ট্রোক, মৃগীরোগ বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া এবং মেরুদণ্ডের বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগের চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত চিকিৎসকের পাশাপাশি উন্নত অবকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।

নতুন ৫০০ শয্যার ভবনের মাধ্যমে এসব রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ভবনে আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে শুধু রোগী ভর্তির সক্ষমতাই বাড়বে না, চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

‘প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক চিকিৎসাসেবা জরুরি’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেই একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হয়ে যায় না। চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে মানবিক আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে; কিন্তু একজন রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট উপলব্ধি করে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি চিকিৎসকদের রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা এবং সম্মানজনক ও সহানুভূতিশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব বিষয় চিকিৎসাসেবার প্রতি রোগী ও স্বজনদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিকিৎসক-রোগীর আস্থার সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন—এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক থাকা জরুরি।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা যদি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং রোগী ও স্বজনরা চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা ও মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে শুধু হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

তাই আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক, চিকিৎসাসেবার মান, নিরাপত্তা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানান তিনি।

লক্ষ্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষকে নিজ দেশেই প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা। বিশেষায়িত হাসপাতাল সম্প্রসারণ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

পাঁচ অঞ্চলে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বাইরে শিশুদের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। পাশাপাশি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নতুন ভবন চালুর মাধ্যমে জটিল স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় দেশের সক্ষমতাও আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!