ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেল পাচারের চেষ্টার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত ২ কর্মচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১০:১১ এএম

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেল পাচারের চেষ্টার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত ২ কর্মচারী

ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেল পাচারের চেষ্টার ঘটনায় যান্ত্রিক বিভাগের দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মচারী হলেন ভাণ্ডার রক্ষক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং সিনিয়র স্টোরম্যান সঞ্জয় কুমার দে। তাঁদের বিরুদ্ধে ডিজেল পাচারের চেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
যেভাবে জব্দ হয় ৪,২৫৬ লিটার ডিজেল
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর যমুনা অয়েল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জোনাল ওয়ার্কশপ-ডির জন্য মোট ১৮ হাজার লিটার ডিজেল নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৪ লিটার ওয়ার্কশপের ফুয়েল ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়। অবশিষ্ট ৪ হাজার ২৫৬ লিটার ডিজেল বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা থেকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় বন্দরের অভ্যন্তরে ১ নম্বর গেটসংলগ্ন কেমিক্যাল শেডের বিপরীত পাশে ডিজেলগুলো জব্দ করে বন্দরে নিয়োজিত নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল। ডিজেলগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল কি না, কীভাবে তা ওয়ার্কশপের নির্ধারিত মজুত থেকে বাইরে নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসতে পারে।
দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ভাণ্ডার রক্ষক মাহমুদুর রহমান মান্না ও সিনিয়র স্টোরম্যান সঞ্জয় কুমার দেকে সাময়িক বরখাস্ত করে অফিস আদেশ জারি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মির্জা রাকিবুল ইসলাম এ আদেশ জারি করেন।
বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জ্বালানি তেলের সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার নির্ধারিত নিয়মে পরিচালিত হওয়ার কথা। এ অবস্থায় বরাদ্দ করা ডিজেলের একটি অংশ কীভাবে ওয়ার্কশপের ফুয়েল ট্যাংকে সংরক্ষিত পরিমাণের বাইরে থেকে যায় এবং তা বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়—তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে যান্ত্রিক বিভাগের জোন-সির নির্বাহী প্রকৌশলীকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—
•    সিনিয়র পারসোনেল অফিসার (আইআর);
•    সিনিয়র অডিট অফিসার;
•    নিরাপত্তা অফিসার (প্রশাসন)।
কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তদন্তে ডিজেল সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হতে পারে।
তদন্তে নির্ধারিত হবে দায়-দায়িত্ব
ঘটনার প্রকৃত কারণ, ডিজেল সরানোর উদ্যোগের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এতে বন্দরের কোনো আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের তদারকির ঘাটতি বা নিয়মের ব্যত্যয় ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা ও ব্যক্তিবিশেষের দায় সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় এর অভ্যন্তরীণ সম্পদ, জ্বালানি ও সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকে ডিজেল জব্দের পেছনের প্রকৃত ঘটনা ও দায়িত্বশীলদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!