চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির অভিযোগে অনিক দাশ নামে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অনিক দাশ বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত। তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) খুলশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় বান্দরবান জেলা পুলিশের এক কনস্টেবল ও তাঁর চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় প্রথমে চক্রটির এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল অনিক দাশসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলছিল। এ সময় প্রথমে চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে চোর চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা করা হয়েছে।
তবে মোটরসাইকেলটি কোথা থেকে চুরি করা হয়েছিল, চক্রটি কত দিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং এর সঙ্গে আরও কেউ সম্পৃক্ত কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাননি।
পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে
গ্রেপ্তার অনিক দাশ বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত থাকলেও ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
বান্দরবান জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানিয়েছেন, এ-সংক্রান্ত মামলার কাগজপত্র পাওয়ার পর ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচা নিয়ে উদ্বেগ
চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচা ব্যক্তিগত সম্পত্তির নিরাপত্তার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল শনাক্ত করা, সন্দেহভাজন কেনাবেচার তথ্য যাচাই এবং অপরাধচক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল কেনার আগে নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র, মালিকানার প্রমাণ এবং গাড়ির পরিচিতি নম্বর যাচাই করা প্রয়োজন। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রির প্রস্তাব পাওয়া গেলে ক্রেতাদের সতর্ক থাকা উচিত।
চট্টগ্রামের খুলশীতে পুলিশ কনস্টেবলসহ পাঁচজনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এখন মামলার তদন্তে মোটরসাইকেলটির উৎস, চক্রটির কার্যক্রম এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বেরিয়ে আসার অপেক্ষা রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

