ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

প্রকাশিত সংবাদে ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

প্রকাশিত সংবাদে ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তা চৌধুরী গোলাম হাসনাইনকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদে ঘুষ লেনদেন, অনিয়ম, সিন্ডিকেট পরিচালনা, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা, তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের দাবি উঠেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও কথিত সিন্ডিকেটের সদস্যদের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য বা প্রকাশ্য নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার আগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ যাচাই জরুরি।

প্রতিবেদনে উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেন, কমিশনারের পিএ মজনু মিয়াসহ আরও কয়েকজনের নামও অভিযোগের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ ছাড়া কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন, সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা, হুমকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও ঘটনার সময়, স্থান, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, লিখিত অভিযোগ কিংবা অন্যান্য যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। কোনো অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা যেমন জরুরি, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও সমীচীন নয়।

চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের সম্পদের উৎস এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কথিত নজরদারি বা তদন্তের বিষয়েও প্রতিবেদনে বক্তব্য উঠে এসেছে। তবে সম্পদের পরিমাণ, বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য কিংবা দুদকের আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকলে এ ধরনের দাবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে সম্পাদককে ফোন করে হুমকি ও দুর্ব্যবহার করেছেন। এমন অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ফোনালাপের নির্ভরযোগ্য রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণ থাকলে তা যাচাই করা যেতে পারে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটকে ঘিরে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ও অধিকার সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে তা সংশোধন, প্রতিবাদ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য পাঠকের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, বন্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই সাংবাদিকতা হতে হবে তথ্যনির্ভর, ভারসাম্যপূর্ণ ও যাচাইযোগ্য প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!