ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

বীরগঞ্জে ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকার ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ, গুদাম সিলগালা

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১০:০২ এএম

বীরগঞ্জে ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকার ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ, গুদাম সিলগালা

ছবিঃ সংগৃহীত

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে মজুদ রাখার অভিযোগে ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা। এ ঘটনায় সার মজুদ রাখা গুদামঘরটি সিলগালা করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বীরগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাহানপুর গ্রামের আলমের চাতালের একটি ধানের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ রাখা সার শনাক্ত করা হয়। পরে বিষয়টি বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুনকে জানানো হলে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয় এবং গুদামঘরটি সিলগালা করা হয়।

জব্দ করা সারগুলো বীরগঞ্জ উপজেলার মাহানপুর (রনপাড়া) গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে কৃষক মো. আলমগীর হোসেনের (৪০) বলে জানা গেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাহানপুর গ্রামের আলমের চাতালের ধানের গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে মজুদ রাখা ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়।

পরে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সারগুলো জব্দের ব্যবস্থা করেন।

অভিযানকালে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোপাল দেব শর্মা এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহসিন আলী উপস্থিত ছিলেন।

জব্দ করা সারের মূল্য ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, জব্দ করা ১৯৮ বস্তা টিএসপি সারের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা।

তিনি জানান, জব্দ করা সারগুলো সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। সার বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সময়মতো সার সরবরাহ এবং সারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে টিএসপি সার ফসলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে ভূমিকা রাখে। এ ধরনের সার অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মজুদ করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে সার সরবরাহ ও কৃষকদের প্রাপ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সার মজুদ ও বাজারজাতকরণে নজরদারির গুরুত্ব

কৃষকদের জন্য সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার বিক্রয়, বিতরণ ও মজুদ কার্যক্রমের ওপর নজরদারি প্রয়োজন। অনুমোদিত নিয়মের বাইরে সার মজুদ বা বিতরণ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা জরুরি।

বীরগঞ্জে ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জব্দ করা সার কীভাবে বিতরণ করা হবে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ এবং বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!